সংগঠন: যেখানে সম্পর্কেরও পাঠশালা
জান্নাতুল লামিশা, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৭
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে নানা ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের বড় অংশজুড়েই থাকে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে। সংগঠন এমন এক জায়গা যেখানে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হন একই লক্ষ্যকে সামনে রেখে।
কিন্তু কেমন হয় এসব সংগঠনের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক? সব ভিন্নতার মধ্যে লক্ষ্য যখন এক, তখন সাংগঠনিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? সে বিষয়েই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের মতামত তুলে ধরেছেন সংবাদকর্মী জান্নাতুল লামিশা।
সততা-স্বচ্ছতায় গড়ে উঠুক সুস্থ সাংগঠনিক সম্পর্ক
সংগঠন একটা পরিবার। সংগঠনের প্রতিটা সদস্য যেখানে সততা,স্বচ্ছতা দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে, যখন কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজটা করে তখনই সুস্থ সাংগঠনিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নারী হিসেবে সংগঠনে কাজ কর চ্যালেঞ্জিং। সাংগঠনিক কাজের ক্ষেত্রে আগে নারীদের এই ধরনের কাজে আগ্রহ নিশ্চিত করাটা জরুরি। নারীরা যেন যথেষ্ট সহযোগিতা পায়। কাজে সাচ্ছন্দ থাকলে পরিবেশও অনেকটা নিরাপদ এবং সহনশীল মনে হবে। পাশাপাশি আত্মসমালোচনা করার সাহস থাকতে হবে। সংগঠনের দায়িত্ব বন্টনের ক্ষেত্রে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নিতে হবে। যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকে দায়িত্ব দিলে সংগঠনে কাজ হয় আনন্দের।
আফরা রুমালি সুপ্তি
শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর
আইন বিভাগ।
সভাপতি
গণ বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল ক্লাব (জিবিসিসি )
সংগঠন মানে সবাইকে সাথে নিয়ে চলা
সংগঠন তো অভিন্ন লক্ষ্যে সমবেত মানুষের সুশৃঙ্খল সম্মিলন। তবে এই সম্মিলন টিকে থাকে কেবল পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহাবস্থানের সংস্কৃতির মাধ্যমে। ফলত সাংগঠনিক সম্পর্ক মুখ্যত হওয়া উচিত আন্তরিকতা, সৌজন্য ও সমমর্যাদাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সংগঠনের ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এরই মৌলিক নীতি। তবে সেই আনুগত্য তখনই অর্থবহ, যখন তা আদর্শিক দৃঢ়তা ও স্বেচ্ছা সম্মতির ওপর নির্ভরশীল। নেতৃত্ব যেমন কর্মীদের আস্থা অর্জন করবে, কর্মীরাও তেমনি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে। অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চা সংগঠনের প্রাণশক্তি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তগ্রহণ সংগঠনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। একই সঙ্গে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে কর্তৃত্ব দায়িত্বে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং, সবাইকে সাথে নিয়ে চলাই সংগঠনের প্রকৃত সার্থকতা।
তাহমিদ হাসান
শিক্ষার্থী আইন বিভাগ ৪র্থ বর্ষ।
সাধারণ সম্পাদক,
গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস)।
সংগঠনে নারী-পুরুষ, সুযোগ হোক সমান
একজন নারী হিসেবে সংগঠনে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তা, সময়ের সীমাবদ্ধতা ও পারিবারিক দুশ্চিন্তার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সংগঠন পরিচালনাও চ্যালেঞ্জিং। পড়াশোনা, ডেইলি ক্লাস,মিটিং, পরিকল্পনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে সময়ের ওপর চাপ থাকে। ভেন্যু, প্রশাসনিক অনুমতি তার সঙ্গে সীমিত বাজেটও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সংগঠনের নারী-পুরুষ সদস্যদের সুস্থ সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক সম্মান, স্পষ্ট যোগাযোগ ও পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পরিবর্তে কাজ, দায়িত্ব ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সবাইকে সমান সম্মান ও মতামত প্রকাশের সুযোগ দিলে নিরাপদ ও সাংগঠনিক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়। নেতৃত্বের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি।
ডা. ফারিয়া হক বর্ষা
শিক্ষার্থী ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সস অনুষদ ।৪র্থ বর্ষ।
সভাপতি, গণ বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ ক্লাব (জিবিএইচসি)
ঈর্ষা নয়, সহযোগিতায় এগিয়ে যাক সংগঠন
সংগঠনের কাজের ক্ষেত্রে সহকর্মীর সাফল্যে ঈর্ষা হওয়া ইতিবাচক। তবে সেটিকে সহযোগিতার মানসিকতায় রূপান্তর করে সহকর্মীকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, শেখার উৎস হিসেবে দেখা উচিত। সংগঠনের সাফল্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। একটি সংগঠনে ‘ভাই ভাই’ সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্য বাড়ায়। তবে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব করা উচিত নয়। যোগ্যতা ও সাংগঠনিক নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সহকর্মীকে শেখানো ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য গড়ে তোলা উচিত। সম্পর্ক থাকবে হৃদয়ে, আর সিদ্ধান্ত হবে নীতি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই ভারসাম্যই সংগঠনকে শক্তিশালী করে।
বিজয় হোসেন
শিক্ষার্থী মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড ব্যায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ৪র্থ বর্ষ
সাধারণ সম্পাদক
গণ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (জিবিডিএস)।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

