Logo

বিনোদন

কাস্টিং কাউচ নিয়ে হংসিকার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নেটপাড়া

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০৯

কাস্টিং কাউচ নিয়ে হংসিকার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নেটপাড়া

হংসিকা মোটওয়ানি

বিনোদন জগতের অন্ধকার দিক কাস্টিং কাউচ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন প্রথম সারির অনেক তারকা। তবে এবার এই স্পর্শকাতর বিষয়ে উল্টো সুর গেয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় ও বলিউড অভিনেত্রী হংসিকা মোটওয়ানি। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে কাস্টিং কাউচ নিয়ে তার করা মন্তব্যকে অসংবেদনশীলআপত্তিকর আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।

সাক্ষাৎকারে হংসিকাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে কাস্টিং কাউচের প্রভাব নিয়ে। জবাবে তিনি জানান, তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় তার পরবর্তী বাক্যে। হংসিকা বলেন, আমার মনে হয় কেউ যদি নিজের কাজে দক্ষ হয় এবং প্রতিভা থাকে, তবে তাকে এই (কাস্টিং কাউচ) পথে হাঁটতে হয় না।

হংসিকার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, হংসিকা পরোক্ষভাবে বলতে চেয়েছেন যেযারা কাস্টিং কাউচের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতিভার অভাব ছিল। টুইটার (বর্তমানে এক্স) এবং ইনস্টাগ্রামে ক্ষোভ দেখিয়ে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, হংসিকা কি বলতে চাইছেন যারা হেনস্থার শিকার হয়েছেন তারা অযোগ্য? এটি অত্যন্ত অসংবেদনশীল মন্তব্য। যৌন হেনস্থাকারীদের দোষ না দিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

আরেক ব্যবহারকারী মনে করিয়ে দিয়েছেন, হংসিকা শিশুশিল্পী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন, তার লড়াইটা আলাদা। বাইরের জেলা বা শহর থেকে আসা একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে যে অশুভ চক্রের মুখোমুখি হতে হয়, সেই কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই।

বলিউড ও দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিং কাউচ নিয়ে যখন মি টু আন্দোলনের মতো বড় বড় ঢেউ উঠেছে, তখন হংসিকার এই মন্তব্যকে অনেকের কাছেই বিলাসবহুল অজ্ঞতা বলে মনে হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, প্রতিভাবান অনেক শিল্পীই এই ব্যবস্থার শিকার হয়ে হারিয়ে গেছেন, যা কেবল প্রতিভার অভাব দিয়ে বিচার করা অসম্ভব।

উল্লেখ্য, হংসিকা মোটওয়ানি শাকা লাকা বুম বুম সিরিয়ালের মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান এবং পরবর্তীতে ভারতের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে এবারের এই বিতর্কিত মন্তব্য তার পেশাদার ইমেজে কতটা প্রভাব ফেলে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন