ঘনিষ্ঠ দৃশ্য প্রসঙ্গে কিয়ারা বললেন ‘অ্যাবসোলিউট ননসেন্স’
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২১:০৯
কিয়ারা আদভানি
দক্ষিণী সুপারস্টার যশের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: অ্যা টেল ফর গ্রোন আপস’ নিয়ে উত্তেজনার পারদ শুরু থেকেই তুঙ্গে। ‘কেজিএফ’ খ্যাত যশের এই প্রজেক্টে যশের বিপরীতে প্রথমবার জুটি বাঁধছেন বলিউড সুন্দরী কিয়ারা আদভানি। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির আগেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন এই অভিনেত্রী।
পর্দায় যশের সঙ্গে কিয়ারার রসায়ন দেখার
জন্য যখন ভক্তরা মুখিয়ে আছেন, ঠিক তখনই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, সিনেমার কিছু ‘অন্তরঙ্গ দৃশ্য’ বাদ দেওয়ার জন্য নির্মাতাদের
ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন কিয়ারা। নিজের পেশাদারিত্ব নিয়ে ওঠা এমন ভিত্তিহীন খবরে এবার
সরাসরি রণচণ্ডী মূর্তিতে ধরা দিলেন পর্দার ‘প্রীতি’।
বলিউড পাড়ায় বেশ কয়েকদিন ধরেই ফিসফাস চলছিল
যে, ‘টক্সিক’ সিনেমায়
কিয়ারার জন্য রাখা কিছু সাহসী দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে
পড়া কিছু ভুয়া পোর্টালে দাবি করা হয়, কিয়ারা চান না বিয়ের পর পর্দায় অতিরিক্ত খোলামেলা
বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে। বিষয়টি কিয়ারার কানে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় নেয়নি। সাধারণত
কিয়ারা বিতর্ক এড়িয়ে চললেও এবার তিনি চুপ থাকেননি।
ছড়িয়ে পড়া একটি খবরের স্ক্রিনশট নিজের
ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেয়ার করে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সেই স্ক্রিনশটের
ওপর বড় বড় অক্ষরে কিয়ারা লিখেছেন, ‘অ্যাবসোলিউট ননসেন্স’ (পুরোপুরি বাজে কথা)।
এমন দাবিকে স্রেফ গুজব এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্মাতাদের
কাছে এমন কোনো দাবি তিনি কখনোই করেননি।
চলতি বছরের শুরুতে ‘টক্সিক’-এর টিজার এবং কিছু স্থিরচিত্র
সামনে আসার পর থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। টিজারে যশের বিধ্বংসী মারকুটে মেজাজের
পাশাপাশি এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কিছু দৃশ্য নেটিজেনদের একাংশের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছিল।
বিশেষ করে যশের কোলে এক নারীর বসে থাকার একটি অস্পষ্ট ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু
হয় জল্পনা। অনেকেই দাবি করেছিলেন, ওই নারীটি আসলে কিয়ারা। টিজারের সেই সব দৃশ্য নিয়ে
সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। অনেকের প্রশ্ন ছিল— সিনেমায় নারীর ভূমিকা কি কেবল
শরীরের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে? এমনকি সিনেমার পরিচালক গীতু মোহন দাস একজন নারী হওয়ার
পরেও কেন এমন খোলামেলা দৃশ্য রাখা হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল নীতি-পুলিশি। কিয়ারাকে
জড়িয়ে সাম্প্রতিক গুঞ্জনটি মূলত সেই আগুনেই ঘি ঢালার কাজ করেছে।
বিতর্কের মুখেও সিনেমার পাশে শক্ত অবস্থানে
দাঁড়িয়েছেন অনেক চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। গীতু মোহন দাসের নির্মাণশৈলী নিয়ে যারা প্রশ্ন
তুলেছিলেন, তাদের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন ‘অ্যানিমেল’ খ্যাত জনপ্রিয় পরিচালক সন্দীপ
রেড্ডি ভাঙ্গা। এক বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’-এর টিজার দেখে তার ধারণা এটি ভারতীয়
সিনেমার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। শিল্পের খাতিরে সৃজনশীল স্বাধীনতা থাকা
উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
সিনেমা সংশ্লিষ্টদের দাবি, যশের এই প্রজেক্টটি
একটি ‘অ্যাকশন ড্রামা’
হলেও এর চিত্রনাট্য অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে কোনো দৃশ্যই অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাখা হয়নি।
কিয়ারা নিজেও একজন পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে চিত্রনাট্যের দাবি মেনেই কাজ করছেন বলে
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।
গীতু মোহন দাসের পরিচালনায় ‘টক্সিক’ সিনেমার কাস্টিং লিস্ট যেন নক্ষত্র
খচিত। যশের বিধ্বংসী লুক আর কিয়ারার গ্ল্যামারের পাশাপাশি এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ
চরিত্রে অভিনয় করছেন দক্ষিণী লেডি সুপারস্টার নয়নতারা। এছাড়াও আছেন হুমা কুরেশী এবং
অক্ষয় অবেরয়। শোনা যাচ্ছে, নয়নতারা এখানে যশের বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা গল্পের
মূল মোড় ঘুরিয়ে দেবে।
সিনেমার মুক্তির তারিখ কয়েক দফা পিছিয়ে
যাওয়ায় ভক্তদের মধ্যে কিছুটা হতাশা থাকলেও, এই বিতর্ক যেন নতুন করে আলোচনার পালে হাওয়া
দিল। তবে কিয়ারা আদভানির সপাটে জবাব এক প্রকার নিশ্চিত করে দিল যে, কোনো ভিত্তিহীন
গুজবে তিনি কান দিতে নারাজ এবং ‘টক্সিক’-এ তাকে সম্ভবত একটি শক্তিশালী ও সাহসী রূপেই দেখা যাবে। আপাতত
বিতর্কের জল থিতিয়ে এলেও, ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যশ-কিয়ারা জুটিকে বড়
পর্দায় দেখার জন্য।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

