জেবা জান্নাত
মুক্তির আগেই বিতর্কের জালে জড়িয়ে পড়েছে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের নতুন সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। গত সোমবার সিনেমাটির পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে তোলপাড়। প্রথমে চিত্রনায়িকা মৌসুমী এই প্রজেক্টটিকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করার পর এবার নতুন বোমা ফাটালেন ছোট পর্দার পরিচিত মুখ জেবা জান্নাত। তার দাবি, এই নামের কোনো সিনেমা তো দূর, কোনো নাটকেও তিনি কোনোদিন অভিনয় করেননি। অথচ সিনেমার অফিসিয়াল পোস্টারে তাকে প্রধান নায়িকাদের একজন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর দুটি পোস্টারেই
চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জেবা জান্নাতকে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে পোস্টারটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন জেবা। অনেকে তার
পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে জেবা জান্নাত বলেন,
“আমি এই সিনেমা
সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জানি না। বন্ধুরা পোস্টারটি পাঠিয়ে যখন জানতে চাইল আমি কবে সিনেমায়
নাম লিখালাম, তখন আমি আকাশ থেকে পড়লাম। দর্শকদের বিভ্রান্তি দূর করতেই বলছি, আমি এই
প্রজেক্টের আগে-পিছে কোথাও নেই।”
জেবা জান্নাতের দাবি, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে
নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কোনো কাজ করেননি। তবে অতীতে একটি সাত পর্বের ধারাবাহিকে
কাজ করেছিলেন। জেবার সন্দেহ, সেই পুরনো নাটকের ফুটেজ হয়তো কোনোভাবে জোড়াতালি দিয়ে এই
সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নাটকের ফুটেজ কীভাবে সিনেমায় ব্যবহার করা
হয়? আর তা সেন্সর বোর্ড থেকেই বা ছাড়পত্র পায় কীভাবে? পোস্টারে আমার ছবি ব্যবহার করার
আগে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, এমনকি আমাকে কোনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি। কাউকে না জানিয়ে
এভাবে ফুটেজ ব্যবহার করা স্পষ্টতই অন্যায়।”
জেবার আগে এই সিনেমা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
করেছিলেন ঢালিউড সেনসেশন মৌসুমী। তার দাবি ছিল, তিনি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামক একটি নাটকে অভিনয়ের
জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাতা তাকে না জানিয়েই সেটিকে সিনেমা হিসেবে সেন্সর
করিয়েছেন এবং বড় পর্দায় মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।
মৌসুমীর স্বামী অভিনেতা ওমর সানীও এই ঘটনাকে
নির্মাতার ‘হীন মানসিকতা’
এবং ‘প্রতারণা’ বলে
উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নাটককে সিনেমা বানিয়ে মুক্তি দেওয়া দর্শকদের সাথে বড় ধরনের
জালিয়াতি।
একাধিক অভিনেত্রীর এমন গুরুতর অভিযোগের
মুখে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর সরাসরি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। জেবা জান্নাতের অভিযোগ
প্রসঙ্গে তিনি কেবল বলেন, “জেবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পোস্টার আসার পর সে ট্রলের শিকার হচ্ছে
বলেই হয়তো এমনটা বলছে।” তবে জেবা আদৌ এই সিনেমায় শুটিং করেছেন কি না বা কীভাবে তার
ফুটেজ সিনেমায় এলো—সেই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
আগামী ১৫ মে সিনেমাটি মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত
করা হয়েছে। বৈশাখী টিভির সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটককে কাটছাঁট করে সিনেমা হিসেবে
চালিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা যদি সত্যি হয়, তবে ঢালিউডের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন
কেলেঙ্কারি হতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, নাটকের ফুটেজ দিয়ে সিনেমা বানিয়ে
মুক্তি দেওয়া কেবল নিয়মবহির্ভূতই নয়, এটি সেন্সর বোর্ডের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
পারিশ্রমিক ও অনুমতি ছাড়াই জেবা জান্নাতের ছবি পোস্টারে ব্যবহার করায় আইনগত জটিলতার
সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে।
মৌসুমী ও জেবা জান্নাত—দুই প্রজন্মের দুই
অভিনেত্রীর এমন আপত্তির পর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সংশয়
দেখা দিয়েছে। অভিনয় না করেও সিনেমার ‘নায়িকা’ হওয়ার এই বিচিত্র ঘটনা এখন টক
অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ১৫ মে পর্দা ওঠার আগে এই বিতর্কের
কোনো সুষ্ঠু সমাধান হয় কি না।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

