মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি
দক্ষিণ ফ্রান্সের উপকূলীয় শহর কানে বসেছে বিশ্বের সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র আসর ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’। আর এই আসরের উদ্বোধনী রাতেই লাল গালিচায় নিজের গ্ল্যামার আর আভিজাত্যের দ্যুতি ছড়ালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিশ মডেল ও অভিনেত্রী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। এবার নিয়ে টানা ১১ বারের মতো কানের রেড কার্পেটে হেঁটে ইতিহাস গড়লেন এই সাবেক ‘মিস আয়ারল্যান্ড’। ৭৯তম কান উৎসবে তাঁর উপস্থিতি কেবল ফ্যাশন নয়, বরং এক দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের গল্প বলছে।
উৎসবের উদ্বোধনী রাতে পিয়ের সালভারদোরি পরিচালিত ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ সিনেমার প্রিমিয়ারে অংশ নেন প্রিয়তি। এদিন তিনি বেছে নিয়েছিলেন একটি গোল্ডেন টোনড স্ট্র্যাপলেস ব্যান্ডেজ ড্রেস। বডিকন ফিট এই মিডি ড্রেসটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর ‘ফ্লুটেড ট্রাম্পেট হেমলাইন’। নিচের অংশের কুঁচকানো ঘের পুরো লুকে একটি ভিন্টেজ ‘মারমেইড ভাইব’ এনে দিয়েছিল। তবে তাঁর পুরো সাজের প্রধান আকর্ষণ ছিল মাথায় পরা একটি বিশেষ হেডপিস। আইরিশ ডিজাইনার ফিওনা রাফটারের তৈরি এই কাস্টম-মেড হেডপিসটি ফ্লোরাল থিমে তৈরি, যা প্রিয়তির লুকে একটি রাজকীয় আবহ যোগ করে। বব কাট খোলা চুলের সঙ্গে এই অনুষঙ্গের সমন্বয় ছিল দারুণ নজরকাড়া।
-6a05e674c6544.jpg)
নিজের পোশাক এবং ডিজাইনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করে প্রিয়তি বলেন, “এটি কেবল ফ্যাশন নয়—নারীরা একে অপরের জন্য কী করতে পারে, এটি তারই প্রতিফলন।”
ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও ডিজাইনার ফিওনা রাফটার যেভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে এই হেডপিস এবং ম্যাচিং
কাস্টম ক্লাচ ব্যাগটি তৈরি করেছেন, তাতে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন প্রিয়তি। মেকআপ আর্টিস্ট
মারিয়ার করা ‘সফট গ্ল্যাম’
মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটে ক্ল্যাসিক রেড লিপস্টিকের ছোঁয়া প্রিয়তিকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন
অঙ্গনে আলাদাভাবে চিনিয়ে দিয়েছে।
মাকসুদা আক্তার প্রিয়তির এই যাত্রা মোটেও
সহজ ছিল না। আয়ারল্যান্ড প্রবাসী এই তারকা একাধারে একজন সফল মডেল, অভিনেত্রী, পেশাদার
পাইলট এবং তিন সন্তানের দায়িত্বশীল মা। ২০১৪ সালে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০১৫ সালে জ্যামাইকায় ‘মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল’ মুকুট জয় করেন
তিনি।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় একে একে তাঁর মুকুটে যুক্ত হয় ‘মিস ইউনিভার্সাল রয়্যালটি’, ‘ইউকে টপ মডেল’ এবং ‘আইরিশ মডেল অব দ্য ইয়ার’-এর মতো একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কানের সঙ্গে তাঁর সখ্যও দীর্ঘদিনের। ৭১তম আসরে একটি ম্যাগাজিন আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ‘টপ মডেল’ সম্মাননা অর্জন করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে প্রতি বছরই তাঁর উপস্থিতি কানের নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
-6a05e684165d6.jpg)
উদ্বোধনী রাতে রেড কার্পেটে প্রিয়তির পাশে
উপস্থিত ছিলেন আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় তারকা মাউরা হিগিনস, রুথ নেগা এবং ব্যারি কিওগান।
মাউরা এদিন সাদা-কালো স্ট্র্যাপলেস পোশাকে নজর কাড়েন, আর রুথ নেগাকে দেখা যায় জমকালো
সাদা স্যুটে। এই বিশ্বখ্যাত তারকাদের ভিড়েও নিজের অনন্য ব্যক্তিত্ব আর স্টাইল স্টেটমেন্টের
মাধ্যমে আলাদা করে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশের এই কন্যা।
মাকসুদা প্রিয়তি দীর্ঘ সময় ধরে আয়ারল্যান্ডে
বসবাস করলেও নাড়ির টান ভোলেননি। আন্তর্জাতিক বড় বড় মঞ্চে তিনি বারবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
করেছেন। পেশায় বৈমানিক হওয়ার পাশাপাশি ফ্যাশন দুনিয়ায় তাঁর এই সুদীর্ঘ পদচারণা দক্ষিণ
এশিয়ার নারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে ১১ বার অংশগ্রহণ করা কোনো চাট্টিখানি কথা নয়। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, নিষ্ঠা আর পরিশ্রম থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকেই নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করা সম্ভব।
-6a05e693ee04d.jpg)
৭৯তম কান উৎসবের প্রথম দিনেই গ্ল্যামার,
আত্মবিশ্বাস আর আভিজাত্যে প্রিয়তি আবারও বুঝিয়ে দিলেন, তিনি কেবল লাল গালিচায় হাঁটতেই
আসেন না, বরং নিজের ছাপ রেখে যেতে জানেন।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

