বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিখুঁত খতিয়ান তৈরিতে ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনের জুড়ি মেলা ভার। সাধারণত এই তালিকায় সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের কিংবা বহুজাতিক ব্যবসায়ীদের আধিপত্য থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনোদন দুনিয়ার তারকাদের দাপটও সেখানে বাড়ছে।
সম্প্রতি ফোর্বস তাদের বিশেষ ‘আইকনোক্লাস্ট ৫০’ তালিকা প্রকাশ করেছে,
যেখানে নিজেদের শিল্প, মেধা ও ব্যবসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা বিশ্বের শীর্ষ ৫০ জন প্রভাবশালী
ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো হয়েছে। আর এই তালিকায় এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে বিশ্বজুড়ে
তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন মার্কিন পপ মেগাস্টার টেইলর সুইফট।
ফোর্বসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৩৬ বছর
বয়সী এই পপ তারকার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারে। এর মাধ্যমে
পপ সম্রাজ্ঞী রিয়ানা ও বিয়ন্সেকে পেছনে ফেলে ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী
হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি। ফোর্বসের ‘আইকনোক্লাস্ট ৫০’ তালিকায় ইলন মাস্ক, মার্ক
জাকারবার্গ, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ওয়ারেন বাফেটের মতো শত-বিলিয়নেয়ারদের পাশাপাশি জায়গা
করে নিয়েছেন বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের বৈশ্বিক তারকারা। সুইফট ছাড়াও এই তালিকায় আছেন পপ
তারকা বিয়ন্সে, র্যাপার ব্যাড বানি, দ্য উইকেন্ড এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের তারকা
পিচার শোহেই ওতানি। তবে সংগীতশিল্পী হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর মুকুটটি এখনো রয়েছে
হিপ-হপ মোগল জে-জি -এর দখলে, যাঁর বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ২.৮ বিলিয়ন ডলার।
টেইলর সুইফটের এই অবিশ্বাস্য আর্থিক উত্থানের
গতি সবাইকে চমকে দিয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি প্রথম বিলিয়নেয়ার বা শতকোটিপতির ক্লাবে প্রবেশ
করেছিলেন। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে তাঁর সেই সম্পত্তি দ্বিগুণ
হয়ে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর রেকর্ডব্রেকিং ব্লকবাস্টার
‘ইরাস ট্যুর’ এবং
একের পর এক সুপারহিট অ্যালবাম। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলা ৫টি মহাদেশের ৫১টি শহরে
১৪৯টি শো-এর এই ঐতিহাসিক কনসার্ট ট্যুরটি ২.২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের সবচেয়ে
সফল কনসার্ট ট্যুর হিসেবে রেকর্ড গড়ে। কনসার্টের পাশাপাশি তাঁর সাম্প্রতিক অ্যালবাম
‘টর্চার্ড পোয়েটস
ডিপার্টমেন্ট’ এবং ২০১৫ সালের শেষের দিকে নয়, বরং গত বছর (২০২৫ সালের অক্টোবর) মুক্তি
পাওয়া তাঁর দ্বাদশ স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ -এর রেকর্ড ভাঙা
বিক্রি ও স্ট্রিমিং এই আয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
টেইলর সুইফটের এই সম্পদ কেবল গান গেয়েই
আসেনি, এর পেছনে রয়েছে তাঁর দূরদর্শী ব্যবসায়িক বুদ্ধি। ২০২০ সালে নিজের পুরনো প্রথম
ছয়টি অ্যালবামের স্বত্ব বা মাস্টার্স রেকর্ডিং নিয়ে আইনি বিরোধের পর তিনি সেগুলো পুনর্নির্মাণের
সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গানের রয়্যালটির সিংহভাগ সরাসরি তাঁর পকেটে
আসতে শুরু করে, যা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির খোলনলচে বদলে দেয় এবং অন্য শিল্পীদেরও নিজেদের
গানের মালিকানা বুঝে নিতে অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তীতে ‘ইরাস ট্যুর’ থেকে হওয়া বিপুল আয়ের একটি
বড় অংশ দিয়ে সুইফট আনুমানিক ৩৬০ মিলিয়ন (৩৬ কোটি) ডলারে একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি কোম্পানির
কাছ থেকে তাঁর পুরনো গানের সেই আসল মাস্টার্সগুলো কিনে নেন। এর ফলে নিজের জীবনের তৈরি
করা সমস্ত গানের শতভাগ মালিকানা এখন তাঁর নিজের হাতে।
ফোর্বসের তথ্যমতে, সুইফটই বিশ্বের প্রথম
সংগীতশিল্পী যিনি মূলত অন্য কোনো বড় ব্যবসা বা ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর না করে, সম্পূর্ণ
নিজস্ব গান এবং লাইভ পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই এই ২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সাম্রাজ্য
গড়ে তুলেছেন। এর বাইরে বিভিন্ন বিলাসবহুল এলাকায় তাঁর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি
মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট রয়েছে।

