চলতি ঈদুল আজহার সিনেমা বাজারে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক শোরগোল ও উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে পরিচালক সাইফ চন্দনের নতুন অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী সিনেমা ‘মালিক’। সম্পূর্ণ গোপনে শুটিং সম্পন্ন হওয়া এই সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক সমাগম ধরে রেখেছে। ছবিটির প্রধান বা নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে ছবিটিতে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা,
বড় ক্যানভাসের সিনেমার চ্যালেঞ্জ এবং প্রাপ্তি নিয়ে অকপট কথা বলেছেন এই অভিনেতা।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিনীত চরিত্র ও
ঢালিউডের এই ভিন্নমাত্রার প্রজেক্টে কাজের সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে শুভ বলেন, একজন পেশাদার
শিল্পীর কাছে যখন যে সুযোগ বা ‘অপরচুনিটি’ আসে, সেটির সততার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাটাই হচ্ছে সময়ের দাবি।
আমার কাছেও ঠিক তেমনি ‘মালিক’ সিনেমার মতো একটি দারুণ সুযোগ এসেছিল এবং আমি আমার জায়গা থেকে
সেটির শতভাগ সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। আসলে সবকিছুই সময়ের ওপর নির্ভর করে, আল্লাহর
হুকুম যখন হওয়ার তখনই হয়েছে। সময়ে কোনো সঠিক কিংবা বেঠিক হয় বলে আমার মনে হয় না; সময়
তার নিজের নিয়মেই আসে। বাকিটা কেবল সবকিছুর পারফেক্ট টাইমিং মেলার একটা বিষয়।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের বিশেষ করে ভারতের ৪০০
কোটি, ৫০০ কোটি কিংবা হাজার কোটি রুপির বিগ বাজেট সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে আরিফিন শুভ
ঢালিউডের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আমাদের সীমিত বাজেটের
মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি বড় ক্যানভাসের কাজ হয়েছে—এটাই একজন
চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয় এবং আমি সেই বৈচিত্র্যময় প্রজেক্টের
লিড ক্যারেক্টার বা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছি। আমাদের এই কাজের ধারাবাহিকতায়
ভবিষ্যতে কী হয়, তা দেখার জন্য আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
বড় বাজেটের ছবির ফ্লেভার প্রসঙ্গে এই নায়ক
আরও যোগ করেন, পাশের দেশে বিপুল বাজেটের ছবি নিয়মিত তৈরি হচ্ছে; সেই তুলনায় আমাদের
সাধারণ দর্শকেরা যদি এই সিনেমার মাধ্যমে দেশের বাইরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক ভিন্ন ধারার
বা ভিন্ন দেশের অ্যাকশন ছবির কিছুটা স্বাদ বা ফ্লেভার নিজের দেশের পর্দায় পায়, তবে
তাতে ক্ষতি কী? বরং এটি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক একটি পরিবর্তনের আভাস দেয়।
ঢালিউডের এই অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে আরিফিন
শুভর বিপরীতে দীর্ঘদিন পর জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। চরিত্রের
প্রয়োজনে এই দুই তারকাই দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর ডায়েট, ফিটনেস ট্রেনিং এবং অ্যাকশন কোরিওগ্রাফির
ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, যার প্রতিফলন রূপালী পর্দায় স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন দর্শকেরা।
দর্শকদের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও ভালোবাসাই নিজের কাজের মূল অনুপ্রেরণা উল্লেখ করে
শুভ বলেন, দর্শকেরা হলে এসে বিনোদিত হতে পারলেই একজন অভিনেতা হিসেবে আমার কষ্ট সার্থক,
তাদের আনন্দটাই আমার কাছে সবকিছু।
সাইফ চন্দনের পরিচালনায় এবং সিদ্দিক আহমেদের
চিত্রনাট্যে নির্মিত এই সিনেমায় শুভ-মিম ছাড়াও মিশা সওদাগর ও মনিরা মিঠুর মতো গুণী
শিল্পীদের অভিনয় দর্শকদের ঈদ বিনোদনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

