চলতি সময়টা যেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষির নিজের করে নেওয়ার। সদ্য মুক্তি পাওয়া ঈদুল আজহার সিনেমা ‘রইদ’-এ একদম ভিন্ন লুকে হাজির হয়ে মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় চারদিকে যখন তুমুল প্রশংসা কুড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই নতুন এক আন্তর্জাতিক চমক নিয়ে হাজির হলেন তিনি।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে
এসেছে ‘রেহানা মরিয়ম
নূর’ খ্যাত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের বহুল প্রতীক্ষিত
মিনি সিরিজ ‘অ্যানি’-র অফিশিয়াল
ট্রেলার। ট্রেলারে তুষির দুর্দান্ত ও প্রায় ‘ভয়াবহ’ এক রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক
ও সমালোচকরা।
অনেকেই নির্দ্বিধায় বলছেন, এ প্রজন্মের
অন্যতম সেরা শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। এই আনন্দের মাঝেই
মঙ্গলবার জার্মানির কোলন শহরের মর্যাদাপূর্ণ ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘ওমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বাংলাদেশের প্রথম
কোনো সিরিজ হিসেবে ‘অ্যানি’-র বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এই অভূতপূর্ব
আন্তর্জাতিক গৌরব ও চারদিকের তুমুল প্রশংসার মাঝেও বিষণ্ণতা ছুঁয়ে গেছে তুষির মনকে।
এর মূল কারণ উৎসব কর্তৃপক্ষের আন্তরিক আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও ঢাকার জার্মান দূতাবাসের
ভিসা জটিলতার কারণে সিরিজের পুরো টিমের কেউই জার্মানি যেতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে নাজিফা তুষি অত্যন্ত মন খারাপ
করে জানান, এত ভালো এবং তার ব্যক্তিগত পছন্দের একটি কাজ, উৎসবের বড় আয়োজনে বসে সবার
সঙ্গে এটি দেখার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখানকার দূতাবাস কোনো রকম সহায়তা
করেনি, যার কারণে কেবল এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তাদের যাওয়া সম্ভব হয়নি। উৎসবের রেড
কার্পেটে দাঁড়িয়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে না পারাটা অবশ্যই অত্যন্ত হতাশাজনক।
তবে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও উৎসবের আন্তর্জাতিক দর্শকদের সঙ্গে কলাকুশলীরা
অনলাইনের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর পর্বে যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন ছবির প্রযোজক এহসানুল
হক বাবু।
‘অ্যানি’ সিরিজের ট্রেলার ও পোস্টারে নির্মাতার
পূর্ববর্তী কাজগুলোর মতোই চেনা নীল রঙের ডিস্টোপিয়ান, অস্বস্তিকর এবং রহস্যে ঘেরা
এক অন্ধকার পৃথিবীর ঝলক দেখা গেছে। সিরিজটি মূলত নির্মিত হয়েছে ‘চেম্বার ড্রামা’র ভাষায়, যেখানে নারী-পুরুষের
সম্পর্কের ভেতরের অসমতা, অবিশ্বাস এবং সামাজিক সহিংসতার বিষয়গুলো নতুনভাবে অনুসন্ধান
করা হয়েছে।
সিরিজে নাম ভূমিকায় অভিনয় করা তুষির চরিত্রটি
একজন তরুণ নার্সের, যিনি নিজের পাঁচ ভাইবোনকে আগলে রেখে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যান।
কিন্তু এক ভয়াবহ হামলার পর তার জীবনের গতিপথ চিরতরে বদলে যায় এবং নিজের চারপাশের ঘৃণার
সঙ্গে লড়তে লড়তে অ্যানি এমন এক অন্ধকারে পতিত হয়, যেখান থেকে সে প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই
দেখতে পায় না। এই সিরিজে তুষির সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা
সাবরিন ও ফারহানা মিঠু।
সহ-অভিনেতা ও বন্ধু ইয়াশ রোহানকে নিয়ে
তুষি বলেন, ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’র
পর ইয়াশের সঙ্গে আবারও কাজ করার অভিজ্ঞতা চমৎকার। ট্রেলারে তার যে ক্যারেক্টার লুক
দেখা গেছে, তেমন লুকে দর্শক ইয়াশকে আগে কখনো দেখেনি। শুধু ইয়াশই নন, সাইমন ভাই থেকে
শুরু করে প্রতিটি চরিত্রই এখানে একদম আলাদা ও ইউনিক।

