ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় মার্কিন টিভি সিরিজ ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-এর অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ের মারা গেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ৩৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার মুখপাত্র। হেইডেনের মৃত্যুতে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর কারণ না জানিয়ে হেইডেনের বাবা স্কিপ প্যানেটিয়ের এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, হেইডেন ছিলেন অসাধারণ এক মানুষ, যিনি তার পরিচিত মানুষ এবং পর্দায় তাকে দেখা লাখো দর্শকের জীবনে ভালোবাসা ও আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরিবারের এই কঠিন সময়ে সবার কাছে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত সময় চান তিনি।
১৯৮৯ সালে জন্ম নেওয়া হেইডেন খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে পা রাখেন। মাত্র ১১ মাস বয়সে একটি খেলনার বিজ্ঞাপনে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি। নয় বছর বয়সে অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘এ বাগস লাইফ’-এ ডট চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
২০০০ সালে ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’ সিনেমায় অভিনয় করেন হেইডেন। এরপর ২০০৪ সালে ডিজনি চ্যানেলের ‘টাইগার ক্রুজ’-এ প্রথমবার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাকে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘হিরোস’ সিরিজে ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান হেইডেন। সিরিজটির বিখ্যাত সংলাপ ছিল—‘সেভ দ্য চিলডেন, সেভ দ্য ওয়ার্ল্ড’ ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চার মৌসুম প্রচারিত হয় সিরিজটি।
এরপর ‘ন্যাশভিল’ সিরিজে কান্ট্রি সংগীতশিল্পী জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। এই চরিত্রের জন্য দুইবার গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়নও পেয়েছিলেন হেইডেন। ‘ন্যাশভিল’-এর জন্য বেশ কয়েকটি গানও রেকর্ড করেন তিনি। তার গাওয়া ১১টি গান সিরিজটির প্রচারকালীন সময়ে বিলবোর্ডের ‘হট কান্ট্রি সং’ তালিকায় জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে সহশিল্পী কনি ব্রিটনের সঙ্গে গাওয়া গানও ছিল।
এ ছাড়া ‘স্ক্রিম ৪’ ও ‘স্ক্রিম ৬’ সিনেমায় কিরবি রিড চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন হেইডেন।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের হেভিওয়েট বক্সার ভ্লাদিমির ক্লিচকোর সঙ্গে তার কন্যা কায়া ক্লিচকোর জন্ম হয়। পরে ২০১৮ সালে মেয়ের পূর্ণ হেফাজত ভ্লাদিমিরের কাছে দিয়ে দেন হেইডেন।
নিজের জীবনে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, অ্যালকোহল ও মাদকাসক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন এই অভিনেত্রী। ২০১৫ সালে ‘ন্যাশভিল’-এর শুটিং চলাকালীন পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে হেইডেন জানিয়েছিলেন, তার জীবনে দীর্ঘদিন ধরে নানা উত্থান-পতন ছিল। তবে অতীতের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে তিনি অনুতপ্ত নন বলেও জানিয়েছিলেন।
চলতি বছর নিজের স্মৃতিকথা ‘দিস ইজ মি: অ্যা রেকনিং’ প্রকাশ করেন হেইডেন। বইটিতে খ্যাতি, মাতৃত্ব-পরবর্তী বিষণ্নতা, আসক্তি ও পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন তিনি।
মে মাসে পডকাস্টার জে শেট্টির সঙ্গে আলাপকালেও মেয়েকে নিয়ে আবেগঘন কথা বলেছিলেন হেইডেন। মেয়েকে সবসময় কাছে পেতে চান বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

