Logo

প্রবাস

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে ঈদেও বিপাকে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৩:১১

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে  ঈদেও বিপাকে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে কঠিন সময় পার করছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ কুয়েত। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে সংঘাতের প্রভাব দেশটির জনজীবনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাইরেনের শব্দ, ধোঁয়া আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঈদের আনন্দ যেন ম্লান হয়ে গেছে, বিশেষ করে সেখানে বসবাসরত প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর জীবনে।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণত প্রবাসীদের মধ্যে থাকে আনন্দ-উৎসবের আমেজ। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুদ্ধাবস্থার কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় হাজারো প্রবাসীর দেশে ফেরার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। কিশোরগঞ্জের কামাল আহমেদের মতো অনেকেই বছরের পর বছর অপেক্ষার পর এবার ঈদে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত যেতে পারছেন না। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ কাটানোর আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে আয়-রোজগারেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ শাহিন আহমেদের মতো অনেক শ্রমিক অতিরিক্ত কাজের সুযোগ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে পরিবারে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, ঈদের প্রয়োজনীয় খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে না পারার কষ্ট তাদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা প্রবীণ শ্রমিকদের অবস্থাও করুণ। নারায়ণগঞ্জের সত্তরোর্ধ্ব সাজ্জাদুল ইসলাম কর্মসংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বয়সের ভার আর যুদ্ধের প্রভাব মিলিয়ে তার পক্ষে দেশে ফেরা বা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবৈধ অবস্থায় থাকা শ্রমিকদের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মুন্সিগঞ্জের শাহাবুদ্দিন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কাগজপত্রহীন অবস্থায় কুয়েতে রয়েছেন। বর্তমান সংকটে তিনি পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং পরিবারের জন্য কোনো অর্থ পাঠাতে পারছেন না। একইভাবে সিলেটের রইস উদ্দিন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিজের সন্তানের মৃত্যুর পরও দেশে ফিরতে পারেননি—যা তার জীবনে গভীর বেদনার ছাপ ফেলেছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন লোকসানের মুখে পড়ছেন। কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ায় অনেকেই চাকরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন। নিরাপত্তার কারণে এবারের ঈদে বাংলাদেশ হাউসে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও দূতাবাস প্রবাসীদের সহায়তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিকল্প পথে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে যুদ্ধের ছায়ায় কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এবারের ঈদ হয়ে উঠেছে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা আর না-পাওয়ার এক বেদনাময় অধ্যায়।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর