ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ, বিশ্বজুড়ে সতর্ক থাকার আহ্বান
স্বাস্থ্য ডেস্ক :
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১৮:৩৬
সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাস নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। যদিও এটি একেবারে নতুন কোনো ভাইরাস নয়, তবে এর বিস্তার ও মানুষের শরীরে অভিযোজন ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা বলতে সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ ও ‘বি’ ভাইরাসকে বোঝানো হয়। সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১) এবং বার্ড ফ্লু (এইচ৫এন১)ও এই গোত্রের ভাইরাস। সম্প্রতি ‘সাবক্ল্যাড কে’ নামে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরেকটি ধরন নিয়েও সতর্কতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই গবেষকদের নজর কাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি।
গবেষকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি আগে মূলত গবাদিপশুর শরীরে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এখন পশু থেকে মানুষের শরীরে এর সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে খামারকর্মী ও পশুর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তারা কোনো না কোনো সময় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির গবেষকেরা বর্তমানে ভাইরাসটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাচ্ছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আরএনএ ধরনের ভাইরাস এবং শ্বাসনালির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে সক্ষম। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য মানুষের শরীরেও এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গবেষকদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে। ফলে বিভিন্ন আবহাওয়ায় এর বিস্তার সম্ভব বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের উপসর্গ সাধারণ সর্দি-কাশি বা ভাইরাল জ্বরের মতো বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভাইরাসটি মানবদেহে কীভাবে আরও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ নামের একটি প্রোটিন ভাইরাসের বিস্তার ও কোষ ধ্বংসে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি লিভারে তৈরি হয়ে রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি সংক্রমণ ভবিষ্যতে কতটা জটিল আকার নিতে পারে, তা নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভাইরাসটির আচরণ, সংক্রমণ ক্ষমতা ও প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়ে আরও গবেষণা চলছে। সতর্কতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

