Logo

স্বাস্থ্য

হিটস্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়

Icon

স্বাস্থ্য ডেস্ক :

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ২০:০৫

হিটস্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়

সংগৃহীত

তীব্র গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকে মনে করেন, তাপমাত্রা যখন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, কেবল তখনই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, মাত্র ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও হিটস্ট্রোক হতে পার। বিশেষ করে যদি শরীরে পানিশূন্যতা থাকে, আর্দ্রতা বেশি থাকে কিংবা বদ্ধ পরিবেশে শারীরিক পরিশ্রম করা হয়, তবে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

হিটস্ট্রোক হঠাৎ করে হয় না; এর আগে শরীর কিছু বিশেষ সংকেত দেয়। অনেক সময় আমরা সেগুলোকে সাধারণ গরমের অস্বস্তি ভেবে ভুল করি। চলুন জেনে নেওয়া যাক শরীর খারাপ হওয়ার আগে কী কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং প্রতিকারের উপায়।

১. শরীর যেসব প্রাথমিক সংকেত দেয়

হিটস্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়

কাজিনদের মধ্যে বিয়ে কি নিরাপদ? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

এশিয়ান হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. প্রাণজিৎ ভৌমিকের মতে, শরীর বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছানোর আগে কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়। এগুলো হলো:

অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অবসাদ।

মাথা ঘোরা বা হালকা বোধ হওয়া।

মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব।

মাংসপেশিতে টান লাগা বা ক্র্যাম্প।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে আসছে।

২. কেন ঘটে এমনটা?

বাতাস চলাচলের অভাব বা ‘পুওর ভেন্টিলেশন’ হিটস্ট্রোকের অন্যতম কারণ [৬]। বাতাস চলাচল না করলে শরীর থেকে ঘাম ঠিকমতো বাষ্পীভূত হতে পারে না, ফলে শরীরের শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে সরাসরি রোদ, আর্দ্রতা এবং দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত হলে সাধারণ তাপমাত্রাতেও শরীর ভেঙে পড়তে পারে।

৩. গরমে সাধারণ কিছু ভুল

আমরা অনেক সময় না জেনেই কিছু ভুল করি যা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়:

পর্যাপ্ত পানি বা তরল পান না করা।

অতিরিক্ত টাইট বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা।

বাইরে বের হওয়ার সময় মাথা না ঢাকা।

দুপুরের কড়া রোদে বিরতিহীনভাবে কাজ করা।

এসি-তে থাকলে পানি পানের কথা ভুলে যাওয়া।

মনে রাখবেন, ঘরের ভেতরে থাকলেও শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়, তাই হাইড্রেশন বজায় রাখা জরুরি।

৪. ঘরোয়া পানীয়র গুরুত্ব

হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে শুধু সাধারণ পানি পান যথেষ্ট নয়। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে লবণ ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে লেবুর শরবত, ঘোল বা ছাঁচ (buttermilk) এবং কাঁচা আমের পান্না (aam panna) অত্যন্ত কার্যকর। এই পানীয়গুলো শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখে।

প্রতিরোধে চিকিৎসকদের পরামর্শ:

হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন।

বাইরে যাওয়ার সময় ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন।

কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিন এবং ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পান করুন।

বদ্ধ ঘরে না থেকে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।

শরীরের সংকেতগুলো চিনতে পারা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই পারে আপনাকে এই মারাত্মক বিপদ থেকে রক্ষা করতে। সামান্য অসুস্থ বোধ করলেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন এবং প্রচুর পানি ও তরল পান করুন।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন