# পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
# অক্টোবরে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
# ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু
# হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই
# ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত তরুণরা, হামে শিশু
দেশে চলতি বছর আবারও হাম ও ডেঙ্গুর দ্বৈত প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় চাপের মুখে পড়েছে। আগস্টে দেশে হামের পরীক্ষায় আক্রান্তের হার এযাবৎকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮ হাজার হাম ও ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই জেলা হাসপাতাল ও সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে গড়ে ১৬০ শতাংশের বেশি বেড দখল হয়ে আছে। অর্থাৎ অনেক হাসপাতাল তাদের নির্ধারিত সক্ষমতার দেড় গুণেরও বেশি রোগী সামলাচ্ছে। ফলে নতুন করে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে। এদিকে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আর সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু প্রায় হাজারের কাছাকাছি।
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করার কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেন। তাদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া সভায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসুবিধা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবহারের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর প্রতিফলন মাঠে অবশ্যই থাকতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়র ও বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় যোগ দেন।
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু: সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার। এ নিয়ে চলতি বছর মশাবাহিত এই রোগে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৭ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩৪ জন ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গুতে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (৩৩৪ জন) ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা বিভাগে ৩১৬ জন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৮, বরিশাল বিভাগে ১৩৭, রাজশাহী বিভাগে ১১২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৪, রংপুর বিভাগে ৫৬ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে রবিবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৬২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ১৯ জন ছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২, বরিশাল বিভাগে ১০, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবরে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু: চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ড. এ এম এ মুহিত বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। এ কারণে এখন থেকেই সতর্কতা বাড়াতে হবে। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা এখনো কম। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই: এদিকে, সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম ও এর উপসর্গে দেশে শিশুর মৃত্যু থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে ৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছর নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং এর উপসর্গ নিয়ে ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই মিলিয়ে গেল ছয় মাসে ৯৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা এবং সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০১ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৫৫ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৫, বরিশালে ৫৬, ময়মনসিংহে ৭৫, খুলনায় ৩৬ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৪৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৫৪ জন।
ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩১৯ জন, রাজশাহীতে ২৩, সিলেটে ১১২, চট্টগ্রামে ২৩৮, বরিশালে ১১৬, ময়মনসিংহে ৪৮, খুলনায় ৮৫, রংপুরে ১৩ জন।
এ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জনে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৯৬।
সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে যান। তবে সবার নমুনা পরীক্ষা না হওয়ায় হামের বিস্তৃতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে সরকারি হিসাবের উপরই পরিসংখ্যানের জন্য ভরসা করতে হচ্ছে।
টিকা দেওয়ার পরেও হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন শিশুর প্রাণহানি হচ্ছে। সংক্রমণও কমছে না।
বিশেষজ্ঞরা মোটা দাগে হামের প্রকোপ না কমার দুটি কারণ বলেছেন। এগুলো হল-অনেক শিশুর টিকা না পাওয়া এবং হাম মোকাবিলায় ‘গাইডলাইন’ বা নির্দেশিকা না করা।
হাম পরিস্থিতি এতদিন পর্যন্ত লম্বা হওয়া এবং মৃত্যু ঠেকাতে না পারার বিষয়ে তারা সরকারের অবহেলা দেখছেন। তারা বলছেন, টিকা দেওয়ার পর এখন অ্যান্টিবডি যাচাই করা উচিত, আদতেই টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হল কিনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত মাঠে বাস্তবায়ন করা গেলে হামের প্রকোপ এ পর্যায়ে আসত না।
ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত তরুণরা, হামে শিশু: বর্ষা মৌসুম পেরিয়ে গেলেও প্রতিদিন থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়ছে। ফলে সারা দেশে ভয়াবহ হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। মশাবাহিত এই রোগে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। শুধু সেপ্টেম্বর মাসের পাঁচ দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৮৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে কর্মক্ষম তরুণরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি; যার ব্যাপক প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবারে ও কর্মক্ষেত্রে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে তরুণরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবারে ও কর্মক্ষেত্রে। আক্রান্তদের বেশির ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১-৪০ বছর বয়সিরা। মৃত্যুর হিসেবেও এ বয়সিরা রয়েছে শীর্ষে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ এমন বয়সে হামে আক্রান্ত হয়েছে, যখন তাদের নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়সই হয়নি। ৪৩ শতাংশ শিশু তিন মাস থেকে ১ মাসের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে।
হাম ও ডেঙ্গুর এই দ্বৈত প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী সামলাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

