# হাম উপসর্গ ও ডেঙ্গুতেও আরও ১৬ মৃত্যু
# ডেঙ্গু নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
# অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: বিশেষজ্ঞ
# গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই কোটি শিশু পেয়েছে হামের টিকা
# লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে
# হামের দ্বিতীয় দফা বিশেষ টিকাদান ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে
# অবহেলা না করে সতর্কতার পরামর্শ চিকিৎসকদের
দেশে চলতি বছরে হাম ও ডেঙ্গুর এক অভূতপূর্ব এবং উদ্বেগজনক দ্বৈত প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যা দেশের জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। একদিকে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের সংক্রমণ, অন্যদিকে ডেঙ্গুর তীব্র চোখ রাঙানি-এই দুই রোগের প্রকোপকে চিকিৎসকেরা ‘অশুভ প্রতিযোগিতা’ বা দ্বৈত সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। এছাড়াও সারা দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ এবং সিলেট বিভাগে ৪ শিশু মারা গেছে। এদিকে, অক্টোবর মাসে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু ও হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাম ও ডেঙ্গুতে ৮ জন করে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে।
চলমান হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় গত পাঁচ মাসে সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু টিকা নিয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়াও আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এদিকে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
হাম উপসর্গ ও ডেঙ্গুতেও আরও ১৬ মৃত্যু: হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৭৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৭২ হাজার ২৭০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৫৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ১২৪ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ১১৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৩০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে, ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন ও সিলেট বিভাগে সাতজন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন।
ডেঙ্গু নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই- স্থানীয় সরকারমন্ত্রী: গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সামনে ডেঙ্গুর পিক পিরিয়ড হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস ডেঙ্গুর পিক পিরিয়ড। তাই সামনে পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগেই প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। এ বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুই দিন আগে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। ডেঙ্গু যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। ৬৪ জেলায় একযোগে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
ডেঙ্গুর দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এ রোগের সঙ্গে লড়াই করছে। অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আরও কার্যকর করা সম্ভব। তাই ডেঙ্গুর ইতিহাস, পরিবেশ ও মশার বিস্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে হবে।
অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বাভাস মডেল বলছে, অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যানিং ফর ডেঙ্গু প্রিভেনশন’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, এডিস মশা শুধু দিনে কামড়ায়, রাতে কামড়ায় না—এ ধারণা ভুল। এডিস মশা রাতেও কামড়ায়। বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা করে বিষয়টি দেখা গেছে।
তিনি বলেন, শীতকালে কিউলেক্স মশা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে এডিস মশা তুলনামূলক কম দেখা যাওয়ায় মানুষ বিষয়টি উপেক্ষা করে। তবে এখন মশা দেখা না গেলেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এডিস মশা দমনে ফগিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কবিরুল বাশার বলেন, এডিস মশার বিরুদ্ধে ফগিং মোটেও কার্যকর নয়। তাই ফগিং বন্ধ করা উচিত। এটি শুধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই কোটি শিশু পেয়েছে হামের টিকা: চলমান হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় গত পাঁচ মাসে সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু টিকা নিয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুততার সঙ্গে ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। তবে দেশে এখনও হামের প্রাদুর্ভাব থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার আবারও নতুন করে ব্যাপকভাবে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথমে এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলে। কিন্তু সরকারের নানা উদ্যোগ গ্রহণের কারণে শিশুদের টিকা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হজার ৬৪ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া। কিন্তু ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেখা গেছে, সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম-রুবেলার টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯১৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৮ জন ও সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর: চলতি মাসের ২৫ তারিখ থেকে দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে হামের টিকার একটি বড় চালান দেশে এসেছে। চলতি মাসের ১৭ তারিখ আরেকটি চালান আসবে। হামে মৃত্যুতে বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই বলেও জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও যখন সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি দেখা যায়, তখন সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।’
ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে চিকিৎসকদের সতর্কতা: সাধারণ জ্বরের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে ডেঙ্গু বা হামের মতো রোগ। মৌসুমের আগেই হাসপাতালে সব বয়সী ডেঙ্গু রোগীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র শরীর ব্যথা ও জ্বর নিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধরাও হাসপাতালে আসছেন। গত কয়েক মাস ধরে হামের প্রকোপের কারণে অনেকেই ডেঙ্গু ও হামের লক্ষণের পার্থক্য বুঝতে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।
বর্তমানে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আবহাওয়ায় পরিবর্তন এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার যেমন বাড়ছে, তেমনি রোগ ছড়ানোর সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। চিকিৎসকরা ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
হাসপাতালগুলোতে হামের রোগীর সাথে ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বর হওয়ার প্রথম দুই দিনের মধ্যেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তরা নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডেঙ্গু হোক বা হাম, সাধারণ জ্বর মনে করে অবহেলা করা ঠিক হবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ডেঙ্গু ও হামের লক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব এবং এতে ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসে। জ্বর বা শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

