# এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থার আহ্বান
# ডেঙ্গু-হাম নিয়ন্ত্রণে নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি : বিআইপি
# ডেঙ্গুতে ৯ মাসে মৃত্যু ২৫০ জন
# হাম ও উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু
# হামের ঝুঁকিতেও নজর দেওয়ার আহ্বান বিআইপির
# জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন করবে জামায়াত
সারাদেশে ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি অক্টোবরে বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশের জনস্বাস্থ্য ও মশাবাহিত রোগ বিশেষজ্ঞরা। এমন একসময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, যখন দেশের হাসপাতালগুলো আরেকটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি সামাল দিচ্ছে। চলতি বছর হামে ১ হাজার ১০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর চাপও বাড়ছে হাসপাতালে।
এদিকে, ডেঙ্গু, হাম, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, নগর তাপ ও অনিরাপদ পানির মতো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনায় ঘাটতির কথা উল্লেখ করে একে আরো গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।
গত একদিনে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু ও এক হাজার ১৬৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারের হিসাবে, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২৫০ জনের মৃত্যু হলো। আর হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত একদিনে দেশে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অক্টোবরজুড়েই ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি থাকতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের পূর্বাভাস মডেলেও অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি এবং পরিবর্তিত আবহাওয়া এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
দেশে সাধারণত অক্টোবর ডেঙ্গুর প্রকোপের অন্যতম শীর্ষ সময়। কবিরুল বাশার আরো বলেন, ‘আমাদের পূর্বাভাস মডেল বলছে, অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক মশা দমন কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাড়িঘরে এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু এখন আর শুধু বড় শহরগুলোর সমস্যা নয়। এডিস মশা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কবিরুল বাশার বলেন, এ কারণেই ডেঙ্গু এখন দেশব্যাপী চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে বা ফগিং করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি অপসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির প্রভাব অক্টোবরেও দেখা যেতে পারে। কবিরুল বাশার জানান, বৃষ্টিপাতের পর ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ দিনের ব্যবধান দেখা যায়। ফলে সেপ্টেম্বরে হওয়া বৃষ্টি অক্টোবরেও সংক্রমণ বাড়িয়ে রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে অন্তত ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১৪৮ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীকে বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের পরামর্শ দেন। জ্বর ও ব্যথায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে রোগের মাত্রা গুরুতর হলে হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। এতে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
ডেঙ্গুতে ৯ মাসে মৃত্যু ২৫০ জন: দেশে গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু ও এক হাজার ১৬৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারের হিসাবে, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২৫০ জনের মৃত্যু হলো।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় এইডস মশাবাহিত এ রোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার (ডিএনসিসি) হাসপাতালগুলোতে ৮০ জন ভর্তি হয়েছেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ভর্তি হন ৪৫ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হন ২৯৫ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৫১ জন, চট্টগ্রামে ৩৩৩ জন, খুলনায় ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ এবং রংপুরে ৭১ জন ভর্তি হয়েছেন।
বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছর ৮২ হাজার ৭৬১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৮৬২ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।
বুলেটিন অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বরে। গত মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের; আর হাসপাতালে যেতে হয়েছে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
হাম ও উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু: হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত একদিনে দেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ২৪২ জনের শরীরে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামের পরিস্থিতিবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জন মারা গেছেন। সেই সঙ্গে এই সময়ে ঢাকা বিভাগেই নিশ্চিত হামে আরও একজনের প্রাণহানি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২১ হাজার ৬২৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ২১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ডেঙ্গু-হাম নিয়ন্ত্রণে নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি- বিআইপি: ডেঙ্গু, হাম, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, নগর তাপ ও অনিরাপদ পানির মতো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটি বলেছে, জনস্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়; একটি শহরের ভূমি ব্যবহার, ড্রেনেজ, জলাশয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আবাসনের ঘনত্ব ও খোলা জায়গার পরিকল্পনার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘হাম ও ডেঙ্গু: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিআইপির সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, সংকট দেখা দেওয়ার পর জরুরি চিকিৎসা ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলেও অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতির মতো মূল কারণগুলো অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। রোগের প্রাদুর্ভাবের পর প্রতিকারের পাশাপাশি ঝুঁকি তৈরির আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে বিআইপির সভাপতি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে সারা দেশে ডেঙ্গুতে ৭৯ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ২৪৫ জন। ২০২৫ সালে সারা বছরে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪১৩ জন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই গত বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মে মাসের প্রাক্-বর্ষা জরিপে ৬৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড ছিল সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে। ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়।
বিআইপি বলছে, এসব পজিটিভ বাড়ির ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ ছিল বহুতল ভবন এবং ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবন। নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট, লিফটের গর্ত ও ছাদে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তাই ভবন নির্মাণের অনুমোদনের শর্তে পানি জমা প্রতিরোধ ও বেজমেন্ট ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্মাণস্থলে নিয়মিত লার্ভা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
হামের ঝুঁকিতেও নজর দেওয়ার আহ্বান: সংবাদ সম্মেলনে হামের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিআইপির সভাপতি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ১৫ মার্চ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১টি সন্দেহভাজন এবং ২১ হাজার ৫২০টি নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম-সম্পর্কিত ১ হাজার ১০৮টি নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও হামের ঝুঁকির ধরন এক নয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জমে থাকা পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু ও নির্মিত পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে হামের ক্ষেত্রে টিকা কভারেজের ঘাটতি প্রধান ঝুঁকি। তবে ঘনবসতি, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ ও নজরদারির ঘাটতিও সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ টিকাদানের জন্য স্থান নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে বিআইপি।
জলাবদ্ধতা-বায়ুদূষণেও পরিকল্পনার ঘাটতি: সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জলাশয় ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল হারানো, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। জলাবদ্ধতার পানি পয়োনিষ্কাশনের সঙ্গে মিশলে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
বায়ুদূষণ ও নগর তাপ নিয়েও উদ্বেগ জানায় বিআইপি। সংস্থাটির মতে, সড়ক ও নির্মাণস্থলের ধুলা, যানবাহনের নির্গমন, ইটভাটা, শিল্পকারখানা এবং বর্জ্য পোড়ানো বায়ুদূষণের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অন্যদিকে জলাশয় ও সবুজ এলাকা কমে গিয়ে নির্মিত এলাকার বিস্তার নগর তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ অবস্থায় সবুজ ও নীল অবকাঠামো, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ, গণপরিবহন এবং খোলা জায়গা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
স্বাস্থ্যকে নগর পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় লক্ষ্য করার আহ্বান: জনস্বাস্থ্যকে নগর পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বিআইপি বলেছে, বড় নগর প্রকল্পে স্বাস্থ্য প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তথ্যভিত্তিক মানচিত্র তৈরি, ড্রেনেজ ও পানি ব্যবস্থার সমন্বয় এবং নিম্ন আয়ের ও অনানুষ্ঠানিক বসতিকে পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
ডেঙ্গু ও হামের ঝুঁকি, জলাবদ্ধতা, জনঘনত্ব, টিকা কভারেজ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও তাপ ঝুঁকির তথ্য জিআইএসের মাধ্যমে একত্রে বিশ্লেষণ করে উচ্চঝুঁকির এলাকা চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছে বিআইপি।
সংস্থাটি বলেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার, ওয়াসা, রাজউক, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সহসভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, কোষাধ্যক্ষ ও পরিকল্পনাবিদ আবু ছালেহ মো. শহীদুল্লাহ, বোর্ড সদস্য (মেম্বারশিপ অ্যাফেয়ার্স) ও পরিকল্পনাবিদ সাদী মো. হারুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন করবে জামায়াত: সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় জনসচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে আগামী ৪ থেকে ১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘জনসচেতনতা সপ্তাহ’ পালন করা হবে।
গতকাল বিকেলে এক বিবৃতিতে তা জানানো হয়েছে। দলটির মতে, জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর মতো জীবনবিনাশী মশাবাহিত রোগ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ৪ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারে ঐতিহ্যবাহী মধুবাগ খেলার মাঠে ৪ থেকে ১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসী, সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

