ইরানে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে : মানবাধিকার সংস্থা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭
ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা।
রোববার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এসব তথ্য জানায়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নজিরবিহীন অস্থিরতায় অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। একই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ।
তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের মর্গে সারিবদ্ধভাবে লাশের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেলেও কর্তৃপক্ষ নিহতদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা নিহতের পরিসংখ্যান নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করতে পারেনি।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনে ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ লাগাতার রাস্তায় নামতে থাকে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর রাজধানীসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ওই সময় একদিনেই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তার ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
ইরান কর্তৃপক্ষ দেশের চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলছি, ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পাশাপাশি সব মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ আমাদের বৈধ নিশানা হবে।’
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে যে ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সেই কাঠামোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
এমবি

