মুসলিম ব্রাদারহুডের ৩ শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ট্রাম্প প্রশাসন
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০১
মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও তাদের সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তর এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, লেবানন, জর্ডান ও মিশরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র ও তার স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন (এফটিও)’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে সবচেয়ে কঠোর সন্ত্রাসী শ্রেণিভুক্তি। এর ফলে সংগঠনটিকে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অন্যদিকে ট্রেজারি বিভাগ জর্ডান ও মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাগুলোকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন অভিযোগ অনুযায়ী, এসব শাখা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা ও অস্থিতিশীল কার্যক্রম যেখানেই ঘটুক, তা প্রতিহত করাই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদে জড়িত বা সহায়তাকারী এসব সংগঠনের সম্পদ ও সক্ষমতা ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, তাদের সংগঠন সহিংসতায় জড়িত নয়।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়, লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখার একটি অংশ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপে জড়িত ছিল। এছাড়া জর্ডানের শাখার নেতারাও হামাসকে সহায়তা করেছেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯২৮ সালে মিশরে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৩ সালে দেশটিতে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জর্ডান সরকারও সংগঠনটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক নাথান ব্রাউন বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারে। তবে যেসব দেশ মুসলিম ব্রাদারহুডকে রাজনৈতিক পরিসরে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি নতুন জটিলতা তৈরি করবে।
তিনি জানান, বিশেষ করে কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এই সিদ্ধান্ত ‘কাঁটার মতো’ বিঁধে থাকতে পারে।
নাথান ব্রাউন আরও বলেন, এসব শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পশ্চিম ইউরোপ ও কানাডায় ভিসা ও রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন প্রক্রিয়াতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, এতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সন্দেহের ভিত্তি আরও শক্ত হবে এবং মুসলিম ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপ আদালতে তুলনামূলকভাবে কম প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালেই মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। ডানপন্থী প্রভাবক লরা লুমারের মতো ট্রাম্প-সমর্থক কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও সংগঠনটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
এরই মধ্যে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত দুই অঙ্গরাজ্য— ফ্লোরিডা ও টেক্সাস— মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
কেই/এমএইচএস

