গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ১০
যুদ্ধবিরতির ২য় ধাপ শুরুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৬
গাজায় যুদ্ধবিরতির ‘দ্বিতীয় পর্যায়’ শুরু : মার্কিন পরিকল্পনা পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সাথে সাথে চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। ছবি : আলজাজিরা
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওয়াফা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দেইর এল-বালাহ শহরের মধ্যবর্তী আল-হাওলি এবং আল-জারোউ পরিবারের দুটি বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, সেখানে ছয়জন নিহতের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের একজন হলেন হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডের কমান্ডার মুহাম্মদ আল-হাওলি। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় তার পরিবারের বাড়িতে চালানো হামলায় তিনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ তারা নিজেদের শর্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে চায়।
গাজার অন্যান্য এলাকাতেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাফাহ শহরের পশ্চিমে আল-আলাম গোলচত্বরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে একজন নিহত হন। গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে আল-নাবলুসি জংশনের কাছে একটি পুলিশ পোস্টে হামলায় আরেকজন নিহত হন। পাশাপাশি মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-খতিব পরিবারের বাড়িতে বিমান হামলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
হামাস এক বিবৃতিতে আল-হাওলির বাড়িতে হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এতে যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবজ্ঞা স্পষ্ট হয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কমান্ডারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ইসরায়েল গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা ছাড়তে বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছে এবং সেনারা একটি তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বরাবর অবস্থান করছে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এই ধাপে গাজার নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসন গঠন এবং পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং যাচাই-বাছাই করা ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা নামের এই কমিটির প্রধান হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শা’থকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মিসরীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, কমিটি বর্তমানে মিসরে প্রস্তুতি বৈঠক করছে।
হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম এই কমিটি গঠনকে ‘সঠিক পথে একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজার প্রশাসন বেসামরিক কমিটির হাতে তুলে দিতে হামাস প্রস্তুত।
এদিকে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনওপিএসের প্রধান জর্জ মোরেইরা দা সিলভা গাজার পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, গাজার পুনর্গঠনে প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। আলি শা’থ জানিয়েছেন, গাজায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ দ্রুত সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও মানবদেহের অংশও রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৪৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা
এমএইচএস

