যুদ্ধের মাঝেও স্বস্তি
হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান, ছাড় পাচ্ছে বাংলাদেশসহ ৫ দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশকে এই জলপথ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের তথ্যমতে, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের জাহাজগুলো নির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইরান, যার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ-এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি জানান, অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যেসব দেশকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
আরাগচি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে এবং বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এসব দেশের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তবে যেসব দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত-বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের কিছু মিত্র—তাদের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চল এখন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রুপক্ষ বা তাদের সহযোগীদের জন্য এই পথ উন্মুক্ত রাখার কোনো সুযোগ নেই।”
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় পাকিস্তানগামী ‘সেলেন’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি থেকে ফিরিয়ে দেয় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
গবেষণা সংস্থা কেপলারের তথ্য বলছে, এই সময়ে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।
এই পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে। বিমান পরিবহন থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট-সবখানেই বেড়েছে খরচ, ভেঙে পড়ছে সরবরাহ ব্যবস্থা। অনেক দেশ আবারও করোনা মহামারির সময়ের মতো জরুরি সহায়তা পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকছে।

