ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ২১:০৫
নেপালের নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা বালেন্দ্র (বালেন) শাহ তার প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন।
গত রোববার প্রকাশিত নেপাল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ দফার একটি বিশাল সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছে সরকার, যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শিক্ষা খাত। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ একাধিক সংস্কার করছে নতুন সরকার।
এরই মধ্যে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ওলির সমর্থকদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে দেশটির পুলিশ।
শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি নিষিদ্ধ: নেপালের শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে বালেন শাহর সরকার। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক দল অনুমোদিত সব ধরনের ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসগুলো থেকে এসব সংগঠনের অস্তিত্ব সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবি তুলে ধরবে।
পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমাতে এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের প্রথাগত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বিকল্প এবং মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যাচাই করা হবে। এছাড়া দীর্ঘদিনের সেশন জট কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সংগতি রেখে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পরিচয় ও নাম পরিবর্তন: নেপালি পরিচয় ও জাতীয়তাবাদ উৎসাহিত করতে বিদেশি নামে পরিচালিত স্কুলগুলোকে নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘অক্সফোর্ড’, ‘পেন্টাগন’ বা ‘সেন্ট জেভিয়ার্স’র মতো বিদেশি নামধারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বছরের শেষ নাগাদ নেপালি নাম দিতে বলা হয়েছে।
ভর্তিতে শিথিলতা ও পেনশন বিকেন্দ্রীকরণ: অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ে ভর্তির জন্য এখন থেকে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নেপালের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খাড়কাকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমনপীড়ন চালানোয় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের এক দিন পর এই ঘোষণা এলো।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে। সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর মুখপাত্র শিব কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, অর্থ পাচার-সংক্রান্ত একটি মামলায় খাড়কাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেপালের অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ এই তদন্তের তত্ত্বাবধান করবে, জানান তিনি। নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেসবুকে লেখেন, আন্দোলনের সময় খাড়কার বাসভবন থেকে উদ্ধার করা অর্থের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা দুর্নীতি আর আর্থিক অনটনের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়।

