ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন ‘যুদ্ধাপরাধ’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪২
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক
ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। এই আইনটিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও বর্ণবাদী আখ্যা দিয়ে তিনি এটি অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সোমবার ইসরায়েলি নেসেটে পাস হওয়া এই
বিল অনুযায়ী, যেসব ফিলিস্তিনি প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের ক্ষেত্রে
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত
কোনো ইহুদি চরমপন্থীর ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর হবে না।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার
তুর্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই আইনটি ফিলিস্তিনিদের জীবনের অধিকার এবং সুষ্ঠু বিচার
পাওয়ার প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। দখলকৃত ভূখণ্ডে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ওপর এই বৈষম্যমূলক
প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে
নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একে একটি ‘পেছনের দিকে হাঁটা’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা
করা হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে,
একই অপরাধের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি কখনোই ন্যায়বিচার হতে পারে না; বরং এটি ইসরায়েলকে
‘অপারথাইড’ বা
বর্ণবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে। এমনকি ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র জার্মানিও এই আইনের
তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
নতুন এই আইনের অধীনে ফিলিস্তিনিদের বিচারের
ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও একপাক্ষিক শর্তারোপ করা হয়েছে। বিচারকদের সর্বসম্মতি ছাড়াই
কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে এবং সাজা ঘোষণার ৯০ দিনের
মধ্যে তা কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তিকে বিশেষ কারাগারে রাখা
হবে এবং ভিডিও লিঙ্ক ছাড়া কোনো আইনি পরামর্শ বা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এই মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসরায়েলের ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের
ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের পর দেশটিতে আর
কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। তবে বর্তমান কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী
ইতামার বেন-গভির এই আইনের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক, যাকে সম্প্রতি ফাঁসির দড়ির প্রতীক
সংবলিত পিন পরে জনসমক্ষে দেখা গেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অক্সফামের মতো আন্তর্জাতিক
সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যে, এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো আপিল করার সুযোগ
কমিয়ে দ্রুত ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি
বন্দি রয়েছেন, যাদের অনেকেই অমানবিক পরিস্থিতির শিকার। এদিকে ইসরায়েলের ভেতরেই বেশ
কিছু মানবাধিকার সংগঠন ও সংসদ সদস্য এই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন
দাখিল করেছেন।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

