জেলেনস্কির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়ার ড্রোন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৮
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১৪৯৯তম দিনে এসে শান্তির বাতাবরণ তৈরির এক বিরল সুযোগ ভেস্তে গেছে। আসন্ন ‘ইস্টার’ উৎসব উপলক্ষে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘সস্তা প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন। শুধু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানই নয়, গত বুধবার দিনভর ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ৭০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী, যাতে অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন,
যখন তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা
করছেন, ঠিক তখনই রাশিয়া তার জবাব দিচ্ছে শত শত ইরানি নকশার ‘শাহেদ’ ড্রোন দিয়ে। বুধবার রাতে ৩৩৯টি
এবং দিনের আলোতে আরও ৩৬০টির বেশি ড্রোন ছুড়েছে মস্কো। এই হামলায় ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ
জ্বালানি অবকাঠামো এবং লুটস্ক শহরের একটি বড় ডাকঘর বা মেইল টার্মিনাল পুরোপুরি ধ্বংস
হয়ে গেছে। লুৎস্কের একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ছবি প্রকাশ করে ইউক্রেনের ডাকসেবা কোম্পানি
‘নোভা পোশতা’ জানিয়েছে,
সেখানে আকাশচুম্বী ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, "ইস্টারের
সময় যুদ্ধবিরতি হতে পারত একটি বিশেষ সংকেত, যা বিশ্বকে জানাত যে কূটনীতি এখনও সফল হতে
পারে। কিন্তু রাশিয়া সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিয়ে আমাদের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু
করছে।"
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে
চলা এই সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বুধবার জেলেনস্কি মার্কিন
বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং সিনেটর লিন্ডসে
গ্রাহামের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এতে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তেও যোগ দেন।
জেলেনস্কি এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অভিযোগ উঠেছে
যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দ্রুত
যুদ্ধ শেষ করার জন্য ছাড় দিতে চাপ দিচ্ছে। বিশেষ করে দনবাস অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দুই
পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকায় শান্তি আলোচনা থমকে আছে।
যুদ্ধের ময়দানে গত বুধবার রাশিয়া দাবি
করেছে যে, তারা ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের বাহিনী পুরো লুহানস্ক ‘মুক্ত’ করার কাজ শেষ করেছে। তবে কিয়েভ
এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক মুখপাত্র ভিক্টর ট্রেগুবভ জানিয়েছেন,
লুহানস্কের একটি বড় অংশ রাশিয়ার দখলে থাকলেও তাদের ৩য় ব্রিগেড এখনও ক্ষুদ্র কিছু এলাকায়
শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের পরাজয় অনিবার্য—এমনটি মার্কিন
মধ্যস্থতাকারীদের বোঝাতেই রাশিয়া মাঝেমধ্যে এই ধরনের মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত সামরিক অগ্রগতির
দাবি করে থাকে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ড্রোন
হামলায় চেরকাসি অঞ্চলে চারজন এবং খেরসন অঞ্চলে এক নারী নিহত হয়েছেন। চলমান এই সংঘাত
এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে একপক্ষ কূটনীতির কথা বললেও অন্যপক্ষ সামরিক শক্তির
আস্ফালন চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

