শিল্পপতিদের চাপে যুক্তরাজ্যে বাড়ছে ‘মেগা ফার্ম’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫১
পরিবেশ দূষণ, বায়ুর মান রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে বড় মাপের নিবিড় পশুপালন খামার বা ‘ফ্যাক্টরি ফার্ম’ নির্মাণের নিয়ম শিথিল করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। মূলত দেশটির প্রভাবশালী পোল্ট্রি শিল্প মালিকদের দীর্ঘদিনের লবিং ও চাপের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে এই জাতীয় পরিকল্পনা নীতি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের হাতে আসা ব্রিটিশ সরকারের
কিছু গোপন নথি ও তথ্য অধিকার আইনের অধীনে পাওয়া নথিপত্র থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে
এসেছে। নথিগুলো থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ পোল্ট্রি কাউন্সিল গত দুই বছর ধরে সরকারের ওপর
চাপ সৃষ্টি করে আসছে যাতে নতুন পোল্ট্রি শেড বা খামার তৈরির আইনি বাধাগুলো দূর করা
হয়। তাদের দাবি, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই খামারগুলোর জন্য আরও জায়গার
প্রয়োজন।
গত জানুয়ারিতে কৃষিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা
ইগলের সঙ্গে পোল্ট্রি শিল্পের প্রতিনিধিদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে
মন্ত্রী সরাসরি বলেন, "পরিকল্পনা নীতি এমন হওয়া উচিত যা উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উৎসাহিত
করবে, বাধা দেবে না।" ওই বৈঠকের নথিতে দেখা যায়, পোল্ট্রি শিল্পের এই দাবিকে সরকার
‘বিগেস্ট আস্ক’
বা সবচেয়ে বড় আবদার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালায় পরিবেশগত কারণে
কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করার শর্তাবলি অনেক কঠিন করা হয়েছে এবং ‘দেশীয় খাদ্য উৎপাদন’ ও ‘গবাদি পশুর উন্নত আবাসন’ নিশ্চিত করতে
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পোল্ট্রি শিল্প মালিকদের দাবি, তারা মুরগির
ঘনত্ব কমিয়ে তাদের জীবনমান উন্নত করতে চায়, তাই একই পরিমাণ মুরগি পালনের জন্য এখন আগের
চেয়ে বেশি জায়গা বা বড় শেড প্রয়োজন। তবে পরিবেশবাদীরা এই যুক্তিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। অক্সফোর্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড সিস্টেম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পল বেরেন্স বলেন, "নিবিড় পোল্ট্রি
চাষের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তার যে দাবি করা হচ্ছে তা আসলে কাল্পনিক। কারণ এই খাতটি
পশুখাদ্য ও ভিটামিনের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং এটি এভিয়ান ফ্লুর মতো রোগের
ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।"
যুক্তরাজ্যে পানি দূষণের প্রধান কারণ বর্তমানে
কৃষি খাত। পরিবেশ সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নাইট্র্রেট দূষণের ৭০ শতাংশ এবং ফসফরাস
দূষণের ২৫-৩০ শতাংশের জন্য দায়ী এই কৃষি শিল্প। বড় বড় পোল্ট্রি খামার থেকে নির্গত বর্জ্য
সরাসরি নদীতে মিশে পানি বিষাক্ত করে তুলছে। গত বছর নরফোকের একটি বিশাল খামার প্রকল্প
(যেখানে ৯ লাখ মুরগি পালনের কথা ছিল) স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বাতিল হয়ে যায়।
‘কমিউনিটিজ অ্যাগেইনস্ট ফ্যাক্টরি ফার্মিং’
নামক সংগঠনের প্রচারক মায়া পার্দো বলেন, "সরকার অর্থনৈতিক সুফলের দোহাই দিয়ে মেগা-ফার্মগুলোকে
গ্রিন সিগন্যাল দিচ্ছে। এর ফলে আমাদের গ্রামীণ পরিবেশ, নির্মল বাতাস এবং নদীগুলোর অপূরণীয়
ক্ষতি হবে।"
যদিও সরকারি মুখপাত্র দাবি করেছেন যে,
এই নীতি পরিবর্তনের সাথে কোনো লবিংয়ের সম্পর্ক নেই এবং তারা কেবল খাদ্য নিরাপত্তা ও
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে
যখন খাদ্য ও জ্বালানি সংকট বাড়ছে, তখন সরকার এই অজুহাতে কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে ছাড়
দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চাইছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

