পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনা সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাতে গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
সংঘাত নিরসন ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠিয়েছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। উভয় পক্ষ এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে সোমবার থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়ে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান সংঘাত নিরসনে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে আর তা গত রোববার রাতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করেছে। এই রূপরেখায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও একটি ব্যাপক চুক্তিসহ দ্বি-স্তরীয় একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে রোববার মার্কিন, ইসরায়েলি ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলোর বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল দ্বি-স্তরীয় একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন, যা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটতে পারে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় রোববার তিনি এ হুমকি দেন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৯৪ শতাংশ কমেছে।
৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে। গত রোববার এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের হাতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য একটি পরিকল্পনার খসড়া হাতে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যে সমঝোতা না হলে তেহরানে ‘নরক নেমে আসবে’ বলে হুমকি দেওয়ার পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালী খুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, শান্তি পরিকল্পনাটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথমে ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, এরপর ১৫-২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করা।
সূত্রটি আরও জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পুরো রাতজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলবে না। প্রস্তাবটি পর্যালোচনার সময় ইরান কোনো সময়সীমা মেনে নেবে না বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটনের প্রস্তুতি নেই।
রোববার অ্যাক্সিওস প্রথম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা একটি সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছে, যা দুই ধাপের চুক্তির অংশ হিসেবে স্থায়ী সমাপ্তির দিকে যেতে পারে।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স প্রস্তাবটির কিছু বিষয় উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো— চুক্তির প্রস্তাবটিকে আপাতত ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ বলা হচ্ছে; চুক্তির প্রস্তাবটি দুই ধাপের; প্রথমে যুদ্ধবিরতি, এরপর চূড়ান্ত চুক্তি; প্রস্তাবটি সোমবার চূড়ান্ত হওয়ার কথা; সে ক্ষেত্রে প্রস্তাবটি আজই কার্যকর হতে পারে; যুদ্ধবিরতি হলে সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে যেতে পারে; ১৫–২০ দিনের মধ্যে হবে চূড়ান্ত চুক্তি; চূড়ান্ত চুক্তিতে থাকবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল; প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পায়নি রয়টার্স; পাকিস্তান কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, পাকিস্তান এই প্রস্তাবের রূপরেখা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দাপ্রধান নিহত: ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দাপ্রধান মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। তাকে হত্যার দায় নিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এই হত্যার দায় স্বীকার করা হয়।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আইডিএফ বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড ইরানের বিপ্লবী গার্ডের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা। অবশ্য ইসরায়েলের আগেই ইরানের পক্ষ থেকে খাদেমির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আজ সকালে তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁকে হত্যার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আইআরজিসি।
২০২৫ সালের ১৫ জুন ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির তৎকালীন গোয়েন্দাপ্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হন। এর চার দিন পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন খাদেমি। এখন তাঁকেও হত্যা করল ইসরায়েল।
পুরো ইরান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের: ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় গত রোববার তিনি এ হুমকি দেন।
ট্রাম্পকে এবিসি নিউজের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক প্রতিবেদক র্যাচেল স্কট প্রশ্ন করেন, চুক্তি করার জন্য ইরানকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা কি এখনো বজায় আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ওই হুমকি দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক দিন হওয়া উচিত।’ তিনি দাবি করেন, ইরান ‘তছনছ হয়ে গেছে, একেবারে তছনছ। প্রতিদিন তা আরও খারাপের দিকে যাবে। প্রতিদিন তাদের (ইরানের) আরও বেশি সেতু নির্মাণ করতে হবে, আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে হবে এবং সবকিছু নতুন নতুন তৈরি করতে হবে। এর আগে কোনো দেশ এভাবে মার খায়নি।’
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা এবং এর পরিণাম নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এ হুমকি দেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর কয়েক দিন পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তারা জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় ফিরবে না: হরমুজ প্রণাল আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য তা চিরতরে বদলে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের জন্য ইরানের কর্মকর্তারা যাকে ‘নতুন ব্যবস্থা’ বলে জানিয়েছেন, তা কার্যকর করার লক্ষ্যে তাঁরা এখন সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটিতে একটি খসড়া আইন অনুমোদনের কয়েক দিন পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ওই আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবনায় যা যা রয়েছে— যাতায়াত শুল্ক ইরানের জাতীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ। তা ছাড়া ওই পরিকল্পনায় প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় এবং ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে আটকা ৩ হাজার জাহাজ: বৈশ্বিক তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই জলপথটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে লয়েড’স লিস্টসহ প্রধান বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু গত কয়েক দিনে তা ১০টির নিচে নেমে এসেছে।
আল জাজিরার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার জাহাজ পার হওয়ার অপেক্ষায় হরমুজ প্রণালির আশপাশে আটকা পড়ে আছে।
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জাহাজ আটকা পড়ায় প্রায় ২০ হাজার নাবিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৮১টি জাহাজ বা ট্যাংকার হরমুজ পার হতে পেরেছে, যার মধ্যে ১২৫টি ইরান বা তার মিত্রদের মালিকানাধীন। ইরান তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরাককে এই বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত রেখেছে। তা ছাড়া চীন, ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তাদের জাহাজ পার করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, গত ১ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে অন্তত ২৪টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এতে ৮ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর কয়েক দিন পর ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তারা জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের যত আলটিমেটাম: হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু ইরান বারবার বলেছে, তারা ট্রাম্পের অন্যায় হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। তা ছাড়া হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং এ দুই দেশের মিত্র ছাড়া বাকিদের জন্য খোলা রয়েছে। হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রণালি দিয়ে এসব দেশের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
এই পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ আলটিমেটামের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে হুমকি অনুযায়ী তিনি দেশটির অবকাঠামোতে হামলা শুরুর নির্দেশ দেবেন।
এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে ট্রাম্পের আলটিমেটামগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—
২১ মার্চ: ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম। ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার নির্দেশ। অন্যথায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি।
২৩ মার্চ: তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির কথা জানিয়ে সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়ান ট্রাম্প।
২৬ মার্চ: নতুন ১০ দিনের সময়সীমা ঘোষণা। যার মেয়াদ ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল রাত ৮টায় (ইরানের স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল মধ্যরাত) শেষ হওয়ার কথা।
৪ এপ্রিল: ইরানকে ৬ এপ্রিলের সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি করার জন্য তেহরানের হাতে ৪৮ ঘণ্টা সময় রয়েছে।
৫ এপ্রিল: সময়সীমা ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী আরও একদিন বাড়িয়ে ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত করার আভাস দেন ট্রাম্প। এ দিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, এর মধ্যে ইরান ‘কিছু না করলে’ তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না।
৫ এপ্রিল (পরবর্তীতে): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প একদম সুনির্দিষ্ট এক নতুন সময়সীমা ঘোষণা করেন। এতে তিনি লেখেন ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’ (তেহরানের সময় বুধবার মধ্যরাত)।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৪: গত রোববার ইস্টার সানডের দিনে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকে এটি অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কাফরহাতা গ্রামে একটি হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। বৈরুতের জনাহ এলাকায় আরেকটি হামলায় চারজন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, বৈরুতের পূর্বে অবস্থিত আইন সাদেহ এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। লেবাননের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা যখন ইস্টার সানডে পালন করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
ইরান যা বলছে: এদিকে, গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট প্রস্তাবের বিষয়টি তিনি স্বীকার কিংবা অস্বীকার করেননি।
বাঘাই বলেন, ‘যখনই প্রয়োজন হবে, আমরা মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব।’ ট্রাম্পের হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলোচনা কোনোভাবেই আল্টিমেটাম, অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানের একাধিক তেল স্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ওষুধ কোম্পানি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বোমাবর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ট্রাম্পের হামলার হুমকি নিশ্চিতভাবেই যুদ্ধের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দেওয়া একতরফা সময়সীমা বা আল্টিমেটাম মেনে নিতে তারা বাধ্য নন। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপ-প্রধান মেহেদী তাবাতাবায়ি রোববার বলেছেন, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরই কেবল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস বলছে, স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা চিন্তিত। তাদের সন্দেহ এটি গাজা ও লেবাননের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। অর্থ্যাৎ, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকার পরও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন-তখন ইরানের ওপর হামলা করবে।
ইরান যা বলছে: এদিকে, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট প্রস্তাবের বিষয়টি তিনি স্বীকার কিংবা অস্বীকার করেননি।
বাঘাই বলেন, ‘যখনই প্রয়োজন হবে, আমরা মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব।’ ট্রাম্পের হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলোচনা কোনোভাবেই আল্টিমেটাম, অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানের একাধিক তেল স্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ওষুধ কোম্পানি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বোমাবর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ট্রাম্পের হামলার হুমকি নিশ্চিতভাবেই যুদ্ধের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দেওয়া একতরফা সময়সীমা বা আল্টিমেটাম মেনে নিতে তারা বাধ্য নন। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপ-প্রধান মেহেদী তাবাতাবায়ি রোববার বলেছেন, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরই কেবল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস বলছে, স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা চিন্তিত। তাদের সন্দেহ এটি গাজা ও লেবাননের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। অর্থ্যাৎ, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকার পরও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন-তখন ইরানের ওপর হামলা করবে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

