রাশিয়ার সঙ্গেও যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৫
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পালনে প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে ইরান
ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমে আসা বিশ্বশান্তির জন্য সহায়ক। এর আগে এক গোয়েন্দা
রিপোর্টে জানা গিয়েছিল যে, রুশ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও
মিত্রদের ঘাঁটিতে নজরদারি চালিয়েছিল। জেলেনস্কির মতে, বৈশ্বিক এই উত্তেজনা প্রশমন হলে
বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও কূটনীতি ইউক্রেন সংকটের দিকে আরও ফলপ্রসূভাবে ফেরানো সম্ভব
হবে।
জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে তিনি রাশিয়ার কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ
করে, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ড্রোন বা মিসাইল হামলা চালানো
থেকে বিরত থাকবে।
জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া যদি আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থায়
আঘাত বন্ধ করতে প্রস্তুত থাকে, তবে আমরাও পাল্টাপাল্টি আঘাত বন্ধ করব। আমরা চাই একটি
টেকসই শান্তি, যার চাবিকাঠি হলো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।” উল্লেখ্য, আসন্ন অর্থোডক্স ইস্টার
(১২ এপ্রিল) উপলক্ষেও তিনি একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ইউক্রেনের এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে
ক্রেমলিন এখন পর্যন্ত খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। জেলেনস্কির আগের প্রস্তাবের উত্তরে রাশিয়া
৭০০-এর বেশি শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। রুশ কর্মকর্তাদের মতে, তারা কেবল সাময়িক
বিরতি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির পক্ষপাতী, যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানিয়েছে, ইউক্রেন বিভিন্ন ছাড় দিয়ে আলোচনার পরিবেশ
তৈরির চেষ্টা করলেও পুতিন প্রশাসন এখনো যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়নি।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী কয়েক
দিনের মধ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদলের কিইভ সফরের কথা রয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা
এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

