Logo

আন্তর্জাতিক

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৯

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

পাকিস্তান সরকারের সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় এই আলোচনা শুরু হয়। তবে বৈঠকটি সরাসরি নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। 

এ নিয়ে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা করছে।

সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান হবে। ইতিবাচক অগ্রগতি হলে পরবর্তীতে সরাসরি আলোচনাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার। ভান্স ইসলামাবাদ যাওয়ার আগে বলেছেন, তিনি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন এবং ট্রাম্প স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান যদি আলোচনায় সৎভাবে অংশ না নেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে।

ইরানের প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না মানলে এবং তাদের সম্পদ অবমুক্ত না করলে চূড়ান্ত সমঝোতা কঠিন হবে।

মূল বিরোধের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনা, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা শর্ত তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে ইরানের প্রস্তাবে ১০ দফা রয়েছে।

ইসলামাবাদের লাল অঞ্চলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি সেনা, পুলিশ ও প্যারামিলিটারি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুই দিনের পাবলিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই বৈঠককে “মেক অর ব্রেক” বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠক ব্যর্থ হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক তেলের দাম, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বৈঠক এখনও চলছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ফলাফল জানা যায়নি। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন