ইসরায়েল-লেবাননের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন ৩৪ বছর পর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৬
দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যান, ছবি: বিবিসি
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি কথা বলতে যাচ্ছেন ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তাদের এ আলাপ হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি।’
দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এ দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি, প্রায় ৩৪ বছর। বৃহস্পতিবার সেই আলাপ হতে যাচ্ছে। দারুণ ব্যাপার!’
এদিকে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের জেরে লেবাননে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির অন্তত ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। লেবাননের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র। হিজবুল্লাহর দাবি, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতি চুক্তি ইসরায়েল বারবার লঙ্ঘন করার প্রতিবাদে তারা দেশটিতে হামলা চালায়।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী শুধু আকাশপথেই নয়, দক্ষিণ লেবানন দিয়ে স্থল অভিযানও শুরু করেছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা লেবাননের আরো ভূখণ্ড দখল করে একটি ‘বাফার জোন’ (নিরাপদ অঞ্চল) তৈরি করতে চায়।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এ আলোচনার লক্ষ্য— লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের লড়াইয়ের অবসান।
ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রভাব শেষ করতে এই কূটনৈতিক আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ বলে বর্ণনা করেছেন রুবিও।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে।
ফলে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

