ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হতে পারে সোমবার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৯
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বহু স্থাপনা। পাঁচ সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। তারপরও যুদ্ধ আবার শুরু হওয়া ঠেকাতে নতুনভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সম্ভবত আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। শনিবার পাকিস্তান সরকারের সূত্রগুলো আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে এমন তথ্য জানিয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফা আলোচনা করতে ইরান এখনো রাজি হয়নি বলে অজ্ঞাতনামা ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে।
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠক সোমবার: সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের কারিগরি দল ‘খুব সম্ভবত সোমবার’ ইসলামাবাদে মিলিত হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী চলা সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান চূড়ান্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা একবার চুক্তির খসড়া তৈরি করে ফেললে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধান চুক্তি সই করতে ইসলামাবাদে উড়ে আসবেন।
কয়েকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি আঞ্চলিক আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ১১–১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকের পর থেকেই বিবদমান দুই পক্ষ ইসলামাবাদের মাধ্যমে একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার আগেই তারা একটি ‘সর্বোচ্চ বোঝাপড়ায়’ পৌঁছাতে চাইছে।
হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা: পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল শনিবার দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই সিদ্ধান্ত জানায়।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার কঠোরভাবে ইরানের হাতে নেওয়া হয়েছে। এখন এই জলপথ সশস্ত্র বাহিনীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকবে।
আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান সতর্ক করে জানিয়েছিল, অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করা হবে।
ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বুধবারের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ইরানে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে। গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি হয়তো এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় থাকবে। ফলে একদিকে অবরোধ থাকবে, অন্যদিকে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমা হামলা শুরু করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে দুই দেশ পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
এই সপ্তাহান্তে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল সোমবার পাকিস্তানে আলোচনায় বসতে পারেন এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিলেন। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান-কাতার-তুরস্ক বৈঠক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কের আন্তালিয়ায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে পাকিস্তান, কাতার ও তুরস্কের মধ্যে। গত শুক্রবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম ২০২৬-এর ফাঁকে এ বৈঠকে বসেন তারা। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন তিন দেশের নেতা।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা পর্যালোচনা করেন তারা।
বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কাতারের আমির ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ গত ১৫ এপ্রিল ত্রিদেশীয় সফরে বের হন, একই দিনে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছান।
ইরানের ইউরেনিয়াম চান ট্রাম্প: ইরানের ইউরেনিয়াম ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে’ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেইসঙ্গে তিনি আশা করেন, ইরান এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের ফনিক্স শহরে গত শুক্রবার রিপাবলিকান পার্টির ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর এএফপির। সেখানে ইরানের ইউরেনিয়ামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারো কারো প্রশ্ন আছে যে কী করে আমরা ইরানের নিউক্লিয়ার ডাস্ট (ইউরেনিয়াম) পাবো। আমার উত্তর হলো, আমরা পর্যাপ্ত সংখ্যক এক্সকেভেটর নিয়ে সেখানে যাব এবং ইরানের সঙ্গে মিলে সেটি সংগ্রহ করব।
এজন্য আমাদের অনেক শক্তিশালী ও বড় এক্সকেভেটর প্রয়োজন। এত বড় যে আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গেই যাব এবং তা (ইউরেনিয়াম) সংগ্রহ করব। খুবই শিগগিরই আমরা এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনব।
ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ। ইরান যদি পরমাণু বোমা বানাতে চায়, সেক্ষেত্রে পরিশুদ্ধতার মান কমপক্ষে ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
গত ১৬ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান তার ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে, তবে তারপরই ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের ইউরেনিয়াম কোথাও যাবে না।
শুক্রবার ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘোষণার মাধ্যমে এ ইস্যুতে নিজের পূর্বের অবস্থানই ফের ব্যক্ত করলেন ট্রাম্প।
ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে যাবে না-তেহরান: নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করা দাবি প্রত্যাখ্যান করে তেহরান বলেছে, তারা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কাউকে দেয়নি।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি আল–জাজিরাকে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা বা তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো প্রস্তাব তেহরান ‘সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে। এ বিষয়টিকে ইরান তাদের ‘কৌশলগত রেড লাইন’ (চরম সীমা) হিসেবে বিবেচনা করে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করবে। এমনকি গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক “ধুলো” (নিউক্লিয়ার ডাস্ট) নিয়ে নেবে।’
ট্রাম্পের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থায় এটি কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।’
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানি নারীরা: ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘ডিভোটেড গার্লস অফ ইরান’ শীর্ষক এক বিশাল সমাবেশে হাজার হাজার নারী ও তরুণী অংশ নিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইসলামি বিপ্লবের নতুন নেতার’ প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন এবং দেশ রক্ষায় শপথ নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ‘কন্যা শিশু দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী অনেক নারী হাতে অস্ত্র ও জাতীয় পতাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন।
প্রেস টিভির ক্যামেরার সামনে এক তরুণী বলেন, আমরা এখানে এসেছি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমেরিকান ইহুদিবাদী শত্রুকে পরাজিত করতে। আমেরিকার ধ্বংস হোক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের দীর্ঘ চার দশকের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে প্রায় প্রতিদিন সরকারপন্থি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণত ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকারের তত্ত্বাবধানে এসব সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
রাশিয়ার তেল কেনার সুযোগ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক মাস শিথিল করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নথিতে জানায়, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত যেসব জাহাজে রুশ তেল ও জ্বালানি পণ্য তোলা হয়েছে, সেগুলো আগামী ১৬ মে পর্যন্ত কেনা যাবে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ৩০ দিনের একটি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তটি সে মেয়াদেরই একটি বর্ধিত অংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘোষণার দুদিন আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ওয়াশিংটন আর কোনো ছাড় দেবে না।
রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানান, প্রথম দফার এ ছাড়ের ফলে ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বাজারে আসবে। এ পরিমাণ তেল বিশ্বের প্রায় এক দিনের মোট চাহিদার সমান।
নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার এ সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা পুরোপুরি না কাটায় জ্বালানি তেলের দাম খুব বেশি কমেনি।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে বিস্ফোরণ: যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকার যেসব শহর এখনো ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে তারা ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে। সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলেছেন, তারা লেবাননের শহরগুলো ধ্বংস করতে দিতে চান, যাতে বাসিন্দারা আর সেখানে ফিরে যেতে না পারেন।
এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। দুই দেশের বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ নতুন দফার বৈঠক থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

