মোসাদের দুই ‘গুপ্তচরের’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৯
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন এই দুই ব্যক্তি। এই প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিল নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার, সংবেদনশীল স্থাপনা শনাক্তে সমন্বয়, বিস্ফোরক প্রজেক্টাইল তৈরি।
খবরে আরো বলা হয়, এই দুই ব্যক্তি ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি নিজেদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও তাদের নিয়ন্ত্রণকারীদের কাছে পাঠাতেন। এর বিনিময়ে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ কার্যত লকডাউনের মধ্যে রয়েছে। রেড জোনসহ কয়েকটি এলাকায় সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক মার্কিন সি–১৭ গ্লোবমাস্টার উড়োজাহাজ ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে। আরও কিছু উড়োজাহাজ আসার পথে থাকতে পারে।
তবে আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরানের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। আলোচনার জন্য পাকিস্তান ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। দেশটির প্রতিরক্ষাপ্রধান সম্প্রতি তিন দিনের সফরে তেহরান গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম দলগুলো, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা দল ও সাঁজোয়া যান রয়েছে, ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং দুই পক্ষের কঠোর বক্তব্য সম্ভাব্য এই আলোচনার ওপর অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আছে মাত্র দুই দিন। তবে এই সময়কালে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। সতর্কতা আমলে না নেওয়ায় গুলি করে জাহাজটি জব্দ করা হয়। এই ঘটনার পাল্টা জবাব ও বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এই প্রেক্ষাপটে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির বাকি সময় তা টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার খাতাম আল-আম্বিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শিগগিরই এই সশস্ত্র জলদস্যুতা ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জবাব দেবে, প্রতিশোধ নেবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দেশটি ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ইরানি জাহাজটি থামার সতর্কতা উপেক্ষা করে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স সেই জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে গর্ত করে সেটিকে সেখানেই থামিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

