ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে রোববার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৮
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আগামী রোববার শেষ হচ্ছে বলে ইসরায়েলকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ (কেএএন) বলেছে, তেহরানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে— এমন বার্তা তেল আবিবকে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে তেহরানের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছেন।
তবে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। তারা মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছিলেন, ইরানের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব পাওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি।
সাংবাদিকদের লেভিট বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ ইরানকেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নৌমন্ত্রী জন সি ফেলানের পদত্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের নৌমন্ত্রী জন সি ফেলান পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, অবিলম্বে তার এ পদত্যাগ কার্যকর হবে।
পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জন সি ফেলানকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য ধন্যবাদ ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
ফেলানের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আন্ডার সেক্রেটারি হাং কাও ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।
পারস্য উপসাগরের তলদেশের ইন্টারনেট কেবলে ইরানের ‘হামলার হুমকি’: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এটিকে অঞ্চলটির ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এক প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম’ হরমুজ প্রণালিকে শুধু জ্বালানি সরবরাহের পথ হিসেবেই নয়, বরং সাবমেরিন কেবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
এ পথ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ইন্টারনেট সংযোগের মূল কেবলগুলো গেছে।
প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য ইরানের তুলনায় অনেক বেশি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাসনিমের প্রতিবেদনটি সাধারণ কোনো কারিগরি তথ্য নয়। বরং এটি ওই অঞ্চলের কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডেটা সেন্টারগুলোকে চলমান সংঘাতের কৌশলগত চাপের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এসব স্থাপনায় বিপর্যয় ঘটলে তার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত প্রভাব হবে ভয়াবহ।
এ সতর্কবার্তা এমন এক সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর এরই মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বন্দর, জাহাজ চলাচলের পথ এবং জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি এখন সাবমেরিন কেবল ও আঞ্চলিক ডেটা সেন্টারগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধে ৩১ জাহাজ ফেরত পাঠানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের: ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ করা নৌ অবরোধে ৩১টি জাহাজের দিক বদল করতে বা বন্দরে ফিরতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নৌযানের বেশিরভাগই জ্বালানি তেলের ট্যাংকার। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকম বলেছে, ‘বেশিরভাগ জাহাজ মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলেছে।’
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, দেশটির ১৭টি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক বিমান অংশ নিয়েছে বলেও জানিয়েছে সেন্টকম।
ইরানের জন্য কোনো যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বেঁধে দেননি ট্রাম্প-হোয়াইট হাউস: হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ পর্যন্ত কখন শেষ হবে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ‘নির্ধারণ’ করবেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘আজ কিছু সংবাদে যেমনটা দেখেছি, প্রেসিডেন্ট তেমন কোনো কঠোর সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেননি... আমি জানি কিছু বেনামী সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে যে তিন থেকে পাঁচ দিনের একটি সময় দেওয়া হয়েছে। এটি সত্য নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, শান্তি চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তাবলির বিষয়ে ইরানের নেতাদের কাছ থেকে একটি ‘সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন মার্কিন নেতা।
আলোচনার পথে তিন বাধার কথা জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ সংলাপ ও সমঝোতাকে স্বাগত জানায় এবং তা অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান আরো লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবরোধ এবং হুমকি প্রদানই প্রকৃত আলোচনার প্রধান বাধা।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যের শেষে লিখেছেন, ‘বিশ্ব তোমাদের অন্তহীন কপট কথাবার্তা এবং দাবি ও কাজের মধ্যকার বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছে।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করলে এবং জায়নবাদীদের (ইসরায়েল) সব ফ্রন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বন্ধ হলেই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অর্থবহ হয়।’
গালিবাফ আরও লিখেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির এমন চরম লঙ্ঘনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

