বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি: শীর্ষ তালিকায় গাজা ও সুদান
আলজাজিরার বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২
গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের একটি কমিউনিটি রান্নাঘরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা খাবার নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৬’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৪৭টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তারহীনতায় ভুগেছে। এর মধ্যে গাজা উপত্যকা এবং সুদানের কিছু অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্ভিক্ষ’ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসে এক বিরল ও ভয়াবহ ঘটনা।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক
মানদণ্ড অনুযায়ী ২০২৫ সালে গাজা ও সুদানের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। যুদ্ধবিধ্বস্ত
সুদানে ৬ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছে। গাজা উপত্যকা এখানকার প্রায়
৩২ শতাংশ মানুষ বা ৬ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দা সরাসরি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। সংঘাতের
কারণে গাজা এখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত জনপদ। অন্যান্য দেশের মধ্যে দক্ষিণ সুদান,
ইয়েমেন, হাইতি এবং মালিতেও বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ বা বিপর্যয়কর
পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে
তীব্র ক্ষুধার প্রধান নেপথ্য কারিগর হলো সংঘাত ও সহিংসতা। ১৯টি দেশের প্রায় ১৪ কোটি
৭০ লাখ মানুষের ক্ষুধার পেছনে দায়ী ছিল যুদ্ধ। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন
ও চরম আবহাওয়া ১৬টি দেশের ৮ কোটি ৭৫ লাখ মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখেছে। এছাড়া অর্থনৈতিক
সংকট ১২টি দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের খাদ্য সংকট তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে শিশুদের পুষ্টি
পরিস্থিতির চিত্রও ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২৩টি দেশে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশু তীব্র
অপুষ্টিতে ভুগেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি শিশু ‘সিভিয়ার একিউট
ম্যালনিউট্রিশন’ বা মারাত্মক
তীব্র অপুষ্টির শিকার, যা জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্রায় ৯২ লাখ গর্ভবতী
ও দুগ্ধদানকারী মা তীব্র অপুষ্টির সম্মুখীন হয়েছেন।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালেও
এই পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা খুব কম। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা বিশ্বব্যাপী
কৃষি ও খাদ্য বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ সুদান ও সুদানের মতো দেশগুলোতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়তে
পারে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যখন ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তখন খাদ্য সংকট মোকাবিলায়
আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়ন তহবিলের পরিমাণ গত বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমে
গেছে। এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গ্লোবাল হাঙ্গারের রিপোর্ট অনুযায়ী মোট
আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ (৪৭টি দেশ), গাজা ও সুদান নিশ্চিত দুর্ভিক্ষ
(২০২৫ সালে) এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ গাজা (জনসংখ্যার ৩২%)। অপুষ্টি নিয়ে
৩.৫ কোটির বেশি শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। যুদ্ধ ও সংঘাত (৫৫% ক্ষেত্রে দায়ী)।
রিপোর্টির উপসংহারে বলা হয়েছে, যদি ক্ষুধার
মূল কারণগুলো (বিশেষ করে যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তন) মোকাবিলায় বিশ্বনেতারা দ্রুত পদক্ষেপ
না নেন, তবে ২০২৬ সাল আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

