যুদ্ধ শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৭
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তেহরানকে নতুন করে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কাৎজ জানিয়েছেন, হামলার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে সেনাবাহিনী। কাৎজের এ মন্তব্যকে উত্তেজনার পারদ আরো বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
কাৎজের ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযানের সামরিক ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারি।
আঞ্চলিক চরম উত্তেজনার মধ্যে কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরো বলেন, প্রধান মিত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয় সাপেক্ষে সব ধরনের সামরিক পথই খোলা রাখা হয়েছে।
বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে জড়িয়ে কাৎজের মন্তব্যগুলোকে বিশ্লেষকেরা তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ইসরায়েলের উত্তর ফ্রন্টের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের কঠোর বার্তার উদ্দেশ্য হলো ইরানকে দমানো।
ইরান সংশ্লিষ্ট সাড়ে ৩৪ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র: ইরান সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ (৩৪৪ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ তথ্য জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, ‘তেহরানের তহবিল গঠন, স্থানান্তর এবং দেশে টাকা ফিরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন অর্থ বিভাগ কাজ চালিয়ে যাবে।’ তিনি জানান, ইরান সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে এসব তহবিল জব্দ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের মতো প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ডিজিটাল মুদ্রার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ওয়াশিংটন উভয় পথ বন্ধ করতে চাইছে।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জসহ (ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার মাধ্যম) আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ লড়াই চলছেই: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার একদিন পার না হতেই দুই পক্ষ আবার পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে।
শুক্রবার দিনভর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের মধ্যে এ লড়াই চলে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের ইয়াতের ও কাফরা শহরে হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব রকেট লঞ্চার ইসরায়েলি সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের রামিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার জবাবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল ঘরবাড়ি ধ্বংস করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ঘোষণার পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন থেকে আসা ‘যেকোনো হুমকির’ বিরুদ্ধে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত রাখায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির এখন আর কোনো অর্থ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া হরমুজ দিয়ে বিশ্বের কোথাও জাহাজ চলছে না-পিট হেগসেথ: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। শুক্রবার তিনি বলেন, তেহরানের সামনে এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ আসার সুযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের অবরোধের পরিধি বাড়ছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন বিশ্বের কোথাও কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যের মধ্যেই রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিগগিরই শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। পাকিস্তানের তিনটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনকে পাশে নিয়ে হেগসেথ আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘উদ্বিগ্ন নয়’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুর টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইরানের সামনে এখনো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ার ও আলোচনার টেবিলে আসার সুযোগ রয়েছে। তাদের শুধু অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে হবে।’
এদিকে জেনারেল ড্যান কেইন জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সব বন্দরে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরেও ইরানি জাহাজগুলো বাধা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
কেইন বলেন, ‘ইরানের কোনো বন্দর বা ভূখণ্ডে যাতায়াতকারী যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে আমরা এই অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করছি। যেসব জাহাজ ইরানের দিকে যাচ্ছে বা ইরান থেকে বের হচ্ছে, সেগুলোর ওপর আমরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছি এবং প্রয়োজনে গতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত আছি।’
ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার: ইরানের একটি বন্দরে যাওয়ার পথে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজের গতিরোধ ও সেটি জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা’ (ডিডিজি ১১৫)।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার জাহাজটি যখন ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল, তখন সেটিকে বাধা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

