ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা অবস্থায় স্থায়ীভাবে শান্তির বিষয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার গতকাল শনিবার পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তবে দ্বিতীয় দফার আলোচনাও ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে আবারও চরম বিভ্রান্তি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে এসেছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিএনএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সরাসরি শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার পাকিস্তানে যাচ্ছেন। তবে একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে অবস্থান করলেও তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবেন না বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। একই ধরনের তথ্য দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নুরনিউজ সংস্থাও। আলোচনার প্রকৃত অবস্থা নিয়ে এই ধরনের অনিশ্চয়তা নতুন কিছু নয়। অতীতে একাধিকবার একই ধরনের বিভ্রান্তি দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভ্রান্তি থাকা মানে যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে না, তা নয়; ভিন্ন চ্যানেলে আলোচনা চলতে পারে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার এই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তেহরান আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাতে চলমান সংঘাত অবসানে নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরির জন্য আরও কিছুটা সময় পায় ইরান।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আলোচনার পথে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এই সংকট নিরসনে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে তারা সেখানে কতটুকু সফল হবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য সেখানে এসেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় তিনি অংশ নেবেন না। এর অর্থ হলো, ইরান কোনো বার্তা পাঠাতে চাইলে তা পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই পৌঁছাতে হবে। তাই এই পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত কোনো বড় ধরনের সাফল্যের সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পৌঁছাচ্ছে মার্কিন দল: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আবহে পাকিস্তানে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে ইসলামাবাদ সফর করছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
পাকিস্তানি কর্মকর্তা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমন এক সময়ে আরাঘচি পাকিস্তান সফর করছেন, যখন মার্কিন কর্মকর্তাদেরও একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের আলোচনার জন্য আজই পাকিস্তানে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তানে আসছেন। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জ্যারেড কুশনারের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আশা মিসর-পাকিস্তানের: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই মন্ত্রীই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন। তারা আশা করছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে, উত্তেজনা কমাবে ও বর্তমান সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করবে।
আলাপে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেলাতি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর, বিশেষ করে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি সমাধানের ওপরও জোর দেন।
যুদ্ধের জন্য অনুমতির অপেক্ষায় ইসরায়েল: ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তেহরানকে নতুন করে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কাৎজ জানিয়েছেন, হামলার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে সেনাবাহিনী। কাৎজের এ মন্তব্যকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া। কাৎজের ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযানের সামরিক ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারি।
আঞ্চলিক চরম উত্তেজনার মধ্যে কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, প্রধান মিত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয় সাপেক্ষে সব ধরনের সামরিক পথই খোলা রাখা হয়েছে।
বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে জড়িয়ে কাৎজের মন্তব্যগুলোকে বিশ্লেষকেরা তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ইসরায়েলের উত্তর ফ্রন্টের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের কঠোর বার্তার উদ্দেশ্য হলো ইরানকে দমানো।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান- ট্রাম্প: শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। মার্কিন প্রতিনিধিরাও ইসলামাবাদের পথে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ হয়—এমন প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান।
রয়টার্সকে টেলিফোনে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি প্রস্তাব দিচ্ছে এবং আমাদের দেখতে হবে সেটি কেমন হয়।’ তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবটি ঠিক কী হবে তা তিনি এখনো জানেন না। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই বলে আসছেন যে যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আর মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের নেতৃত্ব বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়- যুক্তরাষ্ট্র আসলে কার সঙ্গে আলোচনা করছে, তখন ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেটা বলতে চাই না, তবে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে, আমরা তাদের সঙ্গেই আলোচনা করছি।’
যুদ্ধ থেকে প্রস্থানের পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আগে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। গতকাল শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানায়।
মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি এখন প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিপক্ষ এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা সামনে রেখে তাদের এই সফর শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা আপাতত নেই তেহরানের।
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ লড়াই চলছেই: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার একদিন পার না হতেই দুই পক্ষ আবার পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে।
শুক্রবার দিনভর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের মধ্যে এ লড়াই চলে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের ইয়াতের ও কাফরা শহরে হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব রকেট লঞ্চার ইসরায়েলি সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের রামিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার জবাবে তারা এ হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল ঘরবাড়ি ধ্বংস করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ঘোষণার পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন থেকে আসা ‘যেকোনো হুমকির’ বিরুদ্ধে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত রাখায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির এখন আর কোনো অর্থ নেই।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ অবসানে চুক্তির জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিজ দেশে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ ক্রমশ বাড়ছে। জিনিউজের খবরে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর শুরুর আগে তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে।
গতকাল শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ইরানের সংবাদমাধ্যম ইসনা (আইএসএনএ) বলেছে, বর্তমানে আমাদের সামরিক শক্তি একটি প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। শত্রু এখন যুদ্ধের এ চোরাবালি থেকে বাঁচতে এক সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে, যেখানে তারা আটকা পড়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই মন্ত্রীই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন। তারা আশা করছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে, উত্তেজনা কমাবে ও বর্তমান সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করবে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

