যুক্তরাষ্ট্রে রাজা চার্লসের ঐতিহাসিক সফর শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৬
রাজা তৃতীয় চার্লস এবং রানী কামিলা
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস এবং রানী কামিলা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই চার দিনব্যাপী সফরটি ২০০৭ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সফরের পর প্রথম কোনো ব্রিটিশ রাজকীয় সফর। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা।
সফরের প্রথম দিনেই ওয়াশিংটনে রাজা ও রানীকে
উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে ব্যক্তিগত চা-চক্র এবং নবনির্মিত মৌচাক পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এই সফরের
আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিনশেষে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এক বিরল গার্ডেন পার্টির
আয়োজন করা হয়েছে, যা ১৯৩৯ সালের পর মার্কিন মাটিতে প্রথম কোনো ব্রিটিশ রাজকীয় গার্ডেন
পার্টি।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে ২১ বার
তোপধ্বনি ও সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাজাকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া
হবে। এদিন রাজা চার্লস মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন, যা কোনো ব্রিটিশ
শাসক হিসেবে ইতিহাসে দ্বিতীয়বার। এরপর রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত স্টেট ডিনারে
অংশ নেবেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।
ওয়াশিংটনের কর্মসূচি শেষে বুধবার রাজকীয়
দম্পতি নিউইয়র্ক সফর করবেন। সেখানে তারা ৯/১১ মেমোরিয়ালে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলবেন। এছাড়া রানী কামিলা একটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে
যোগ দেবেন এবং রাজা চার্লস নিউইয়র্কের ব্যবসায়িক ও সৃজনশীল শিল্পের নেতৃবৃন্দের সাথে
সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভার্জিনিয়াতে স্থানীয় সংস্কৃতি
ও আদিবাসী আমেরিকানদের ইতিহাস সম্পর্কে জানবেন তারা।
নিরাপত্তা ইস্যুতে গত শনিবার ওয়াশিংটনে
একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে,
সফরসূচি অপরিবর্তিত থাকছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই সফরে ক্যালিফোর্নিয়ায়
বসবাসরত প্রিন্স হ্যারি বা মেগান মার্কেলের সাথে রাজার কোনো সাক্ষাতের পরিকল্পনা নেই
বলে জানা গেছে।
এছাড়াও প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে কেন্দ্র করে
তৈরি হওয়া আইনি বিতর্কের কারণে জেফরি এপস্টাইন ভুক্তভোগীদের সাথে রাজার সাক্ষাতের দাবি
উঠলেও আইনি জটিলতা এড়াতে তা নাকচ করে দিয়েছে প্যালেস। চার দিনের এই কর্মব্যস্ত সফর
শেষ করে রাজা চার্লস বারমুডা হয়ে ব্রিটেনে ফিরবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা
নয়, বরং ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মাইলফলক উদযাপনের মুখে দুই
দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক মিত্রতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রয়াস।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

