Logo

আন্তর্জাতিক

থমকে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সংলাপ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২

থমকে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সংলাপ

ছবি: এআই (জেমিনি)

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা। কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও সেই বৈঠক ব্যর্থ হয় এবং প্রতিনিধিরা কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করেই ফিরে যান। প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফা সংলাপে আসার আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। ১১ এপ্রিলের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি গত কয়েক দিনে একাধিকবার পাকিস্তান সফরে গেলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয়বার সরাসরি সংলাপে বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত সপ্তাহেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার আশা ছিল। তবে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে দিয়ে থমকে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সংলাপ।

ইরানের এই প্রত্যাখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনিও তার প্রতিনিধি দলকে ফের ‘১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটে’ পাঠাতে আগ্রহী নন এবং এখন থেকে ফোনকলে যাবতীয় আলাপ-আলোচনা হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরেই নতুন প্রস্তাবটি দিয়েছে ইরান। গতকাল রোববার এক সংক্ষিপ্ত সফরে পাকিস্তান এসেছিলেন আরাগচি, তার আগে তিনি গিয়েছিলেন হরমুজ প্রণালীর অপর তীরের দেশ ওমানে। পাকিস্তানে সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করে রাশিয়া গিয়েছেন আরাগচি।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে এই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, বন্ধ হরমুজ প্রণালিতে ১০৫টির বেশি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নাবিক আটকে আছেন। ট্যাঙ্কার কোম্পানিগুলোর একটি বাণিজ্য সংগঠন এই তথ্য জানিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আবার চালু করা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কারণে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে- ইরান: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তেহরান–ওয়াশিংটন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গতকাল রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর পর ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক এই মন্তব্য করেন। এখানেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আব্বাস আরাগচির বৈঠক করার কথা রয়েছে।

আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও অতিরিক্ত দাবির কারণে অগ্রগতি সত্ত্বেও আগের দফার আলোচনা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ও অতিরিক্ত শর্তের কারণে শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তেহরান- ওয়াশিংটন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইসলামাবাদে এই সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

শান্তি ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব ইরানের: শান্তি ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে গাল্ফ নিউজ জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শেষ করা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

ইরানের নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং পরবর্তীতে ইরান এবং লেবাননে আর আগ্রাসী হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।

দ্বিতীয় পর্যায় : যদি প্রথম স্তরের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মেনে নেয়, তাহলে দ্বিতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আলোচনা চলবে।

তৃতীয় পর্যায় : যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া জানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। 

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস অ্যাক্সিওস বলেছেন, ‘এসব খুবই সংবেদনশীর কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমে এ ব্যাপারে আলোচনা করবে না। আমাদের প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও কার্ড আছে এবং আমরা কেবল এমন একটি চুক্তিতেই রাজি হবো— যা মার্কিন জনগণকে অগ্রাধিকার দেবে এবং ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবে না।

ইরানকে বুধবার পর্যন্ত সময় দিলেন ট্রাম্প: ইরানে সংঘাত নিরসনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বরাবরই দোটানায় থাকতে দেখা যায়। ইরানকে বারবার ‘শর্ত মেনে নেওয়ার’ আল্টিমেটাম দিয়ে আবার তা বাড়িয়ে দেওয়া এখন যেন তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে। গত রোববারও একই কাণ্ড ঘটিয়েছেন এই বিশ্বনেতা। 

পূর্ব ঘোষণা অনুসারে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের আল্টিমেটাম গতকাল সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।  এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ—অর্থাৎ ঊর্ধ্বে ৪২ দিন চলবে, এমন ঘোষণাও দেন ট্রাম্প। খুব শিগগির ওই সময়সীমাও শেষ হতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হেলাফেলা করেই যেন তেহরানকে বাড়তি একটি দিন সময় বাড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প!

গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, 'যদি তারা (ইরান) দ্রুত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে আমি সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার ও তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা ভাবছি।'

কিন্তু এরপর বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১১টার দিকে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে একটি অস্পষ্ট বার্তা দেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রেড লাইন’ তালিকা পাঠাল ইরান: ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনোভাবেই আপস করবে না এমন কিছু বিষয়ের একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখার তালিকা পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন এই তালিকার বিষয়বস্তুগুলো দ্রুততম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের সময় দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এই গোপনীয় তালিকাটি তুলে দেন। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তালিকায় মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই বার্তা প্রদানের বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই তালিকা বা বার্তা দেওয়ার সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বা সম্ভাব্য কোনো সরাসরি আলোচনার সম্পর্ক নেই। বরং এটি বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অনড় অবস্থান পরিষ্কার করার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মাত্র। 

তেহরান মনে করছে, পাকিস্তানের মতো একটি প্রতিবেশী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির মাধ্যমে এই বার্তা ওয়াশিংটনে পৌঁছালে তা যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে বা যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে।

প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইরানের এই ‘রেড লাইন’ তালিকায় পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই দুটি ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বা সরাসরি আঘাত তেহরান কোনোভাবেই সহ্য করবে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এই সীমারেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে ইরান কঠোরতম পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও তালিকার অন্য বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদ সংস্থাগুলো প্রকাশ করেনি, তবে এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ছায়া যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন ৩ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ধ্বংস করল ইরান: ইরানের জাঞ্জান প্রদেশে ৯ হাজার ৫০০টি বোমার ক্ষুদ্র অংশ (বোম্বেট), কয়েক ডজন অবিস্ফোরিত রকেট–ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ–৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা শনাক্ত–নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

প্রদেশটিতে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চালানো আগ্রাসনের অবিস্ফোরিত অস্ত্র–গোলাবারুদ শনাক্ত–নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী–অপসারণ ইউনিটগুলো অভিযান চালায়। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ হাজার ৫০০টির বেশি বোমার ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এগুলো শত্রুর যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছিল। এফ–১৫, এফ–১৬ ও এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বিভিন্ন ধরনের অবিস্ফোরিত রকেট–ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। মোট ৫২টি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে। ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ–৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ধ্বংস করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ছাড়া একটি ৫০০ পাউন্ড ওজনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং জিবি–৩৯ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানায় আইআরজিসি। তারা বলেছে, এগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উন্নত যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার জন্য সবকিছু করবে রাশিয়া: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পুতিন বলেছেন, রাশিয়া আশা করে ইরানের জনগণ এই 'কঠিন সময়' কাটিয়ে উঠবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

এদিকে সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন আরাগচিকে বলেছেন, রাশিয়া 'যত দ্রুত সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার জন্য সবকিছু করবে'।

কোনো অবস্থাতেই হিজবুল্লাহ অস্ত্র ত্যাগ করবে না বলে পুনরায় ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ কখনোই পরাজিত হবে না এবং শত্রুর হুমকির মুখে পিছু হটবে না।

এক ভাষণে নাইম কাসেম বলেন, 'আমাদের অনেক আত্মত্যাগ করতে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটিই মুক্তি এবং সম্মানজনক জীবনের মূল্য। লেবাননের বীর জনতা এবং তাদের প্রতিরোধ শক্তি দুটি বিকল্পের একটি বেছে নিয়েছে: হয় মুক্তি ও মর্যাদা, না হয় দখলদারিত্ব ও লাঞ্ছনা।'

তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবানন এবং এর জনগণের সুরক্ষায় হিজবুল্লাহ তাদের 'প্রতিরক্ষামূলক সংগ্রাম' চালিয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় (মার্চ-পূর্ব স্থিতাবস্থা) ফিরে যাবে না।

কাসেম বলেন, 'আমরা ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেব এবং এর মোকাবিলা করব। শত্রু যতই হুমকি দিক না কেন, আমরা পিছু হটব না, মাথা নত করব না এবং হার মানব না।'

হিজবুল্লাহর সক্ষমতাকে 'অফুরন্ত' উল্লেখ করে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ইসরায়েল বেশিদিন লেবাননে অবস্থান করতে পারবে না। কাসেম আরও বলেন, 'দখলকৃত ফিলিস্তিনের সঙ্গে আমাদের দক্ষিণ সীমান্তের শেষ ইঞ্চি পর্যন্ত আমাদের মানুষ তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে আসবে।'

আমরা মাথা নত করব না- হিজবুল্লাহ প্রধান: কোনো অবস্থাতেই হিজবুল্লাহ অস্ত্র ত্যাগ করবে না বলে পুনরায় ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ কখনোই পরাজিত হবে না এবং শত্রুর হুমকির মুখে পিছু হটবে না।

এক ভাষণে নাইম কাসেম বলেন, 'আমাদের অনেক আত্মত্যাগ করতে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটিই মুক্তি এবং সম্মানজনক জীবনের মূল্য। লেবাননের বীর জনতা এবং তাদের প্রতিরোধ শক্তি দুটি বিকল্পের একটি বেছে নিয়েছে: হয় মুক্তি ও মর্যাদা, না হয় দখলদারিত্ব ও লাঞ্ছনা।'

তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবানন এবং এর জনগণের সুরক্ষায় হিজবুল্লাহ তাদের 'প্রতিরক্ষামূলক সংগ্রাম' চালিয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় (মার্চ-পূর্ব স্থিতাবস্থা) ফিরে যাবে না।

কাসেম বলেন, 'আমরা ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেব এবং এর মোকাবিলা করব। শত্রু যতই হুমকি দিক না কেন, আমরা পিছু হটব না, মাথা নত করব না এবং হার মানব না।'

হিজবুল্লাহর সক্ষমতাকে 'অফুরন্ত' উল্লেখ করে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ইসরায়েল বেশিদিন লেবাননে অবস্থান করতে পারবে না। কাসেম আরও বলেন, 'দখলকৃত ফিলিস্তিনের সঙ্গে আমাদের দক্ষিণ সীমান্তের শেষ ইঞ্চি পর্যন্ত আমাদের মানুষ তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে আসবে।'

আলোচনা থমকে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম: হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং মধ্যস্থতা আলোচনা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল সকাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত এবং উত্তেজনার কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে শান্তি আলোচনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পাল্টা হুঁশিয়ারি চীনের: যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। গতকাল বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, তাঁর দেশ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনের এই ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার চর্চাকে চীন সর্বদা বিরোধিতা করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রিয়াজ উল খালিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দুই পরাশক্তির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপে চীনের একটি বড় স্বাধীন শোধনাগারসহ—যাকে সাধারণত ‘টি-পট’ রিফাইনারি বলা হয়—প্রায় ৪০টি অতিরিক্ত প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। 

বিশেষ করে শানডং প্রদেশের এই শোধনাগারগুলো এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি কোম্পানির বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেছেন যে, ইরানের তেল বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরার লক্ষ্যেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চীন এই নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ বা দীর্ঘমেয়াদী আইনি এখতিয়ার বহির্ভূত আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মুখপাত্র লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে এই ভুল পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেইজিং তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

চীন মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে। এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন