গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও মার্কিন হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ১৪ দফার একটি পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে এই ১৪ দফার নতুন প্রস্তাবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দেয় ইরান। এই প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যাবতীয় সমস্যার সমাধান এবং কেবল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত না করে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা নূর নিউজ-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফার পাল্টা হিসেবে এই ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। এতে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধের অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের শর্তও দিয়েছে দেশটি।
এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তা সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে।
গত রোববার ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। উল্লেখ্য, বর্তমান সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করেছিল ওমান।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করেছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদেজা হাজি-বাবায়ি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় এই সমুদ্রপথ দিয়ে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে। ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির বন্দর অভিমুখে যাওয়া ৪৮টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৩ এপ্রিল থেকে এই অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
অপরদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানিকে ফোন করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তারা কথা বলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নতুন ঘোষণা: সামরিক ময়দানে অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শত্রুপক্ষকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। শিক্ষক দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সাতচল্লিশ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের পর ইরান সামরিক শক্তিতে বিশ্বজুড়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। তবে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এখন অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ‘জিহাদে’ নামতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যে জাতি সামরিক রণাঙ্গনে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, তারা অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও শত্রুর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার সক্ষমতা রাখে।
আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি এই দুই লড়াইয়ের অগ্রসেনানী হিসেবে শিক্ষক ও শ্রমিক সমাজকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে তার সংস্কৃতি ও অর্থনীতি। শিক্ষকরা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের প্রধান শক্তি এবং শ্রমিকরা অর্থনৈতিক যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের পরিচয় ও আদর্শ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হচ্ছে শিক্ষকদের কথা ও আচরণের দর্পণ। তাই আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব শিক্ষকদের কাঁধেই ন্যস্ত।
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব: যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের দেওয়া এই পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিক হলো—আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করে চূড়ান্তভাবে যুদ্ধ শেষ করা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে ইরান তা ৩০ দিনে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৪ দফার মধ্যে আরও রয়েছে—ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না এমন নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি, ইরানের সীমান্ত এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধের অবসান, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে লড়াই বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
সংবাদমাধ্যম এনপিআর এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। শুক্রবার একজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, নথিটি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে শর্তগুলো প্রকাশ করেননি তিনি । অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার জানিয়েছেন যে তিনি নতুন এই প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি রূপরেখা পেশ করেছিল। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছিল।
গত শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, এ পর্যন্ত ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলো তাকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই; তাই দেখা যাক কী হয়।’
৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাল্টা হিসেবে ১৪ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা পরিকল্পনার জবাবে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চাইলেও তেহরান স্পষ্ট করেছে—তারা যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী সমাধান চায়।
তাসনিম নিউজ আরও জানায়, প্রস্তাবনায় ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, লেবাননসহ সব ধরনের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালির জন্য ‘নতুন একটি ব্যবস্থা’ তৈরির কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাক্সিওস সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ অবরোধ শেষ করা এবং ইরান ও লেবাননের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার জন্য এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তারা দুটি সূত্রের বরাতে বলেছে, একটি চুক্তি হলে এরপর আরও এক মাস আলোচনা চালানো হবে, যাতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যায়।
ইরানের প্রস্তাব মেনে নেয়ার সম্ভাবনা নেই ট্রাম্পের: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ইরানের পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন। তবে এই প্রস্তাবের সফলতা বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তার এই অবস্থানের কথা জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, আমি শিগগিরই তা পর্যালোচনা করব। তবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ তারা গত ৪৭ বছর ধরে মানবতা ও বিশ্বের সঙ্গে ইরান যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য চোকাায়নি।’
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান ও লেবাননে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি করতে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তেহরান।
সূত্র দুটি আরও জানায়, ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই চুক্তি হওয়ার পরই কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও এক মাস সময় বর্ধিত হবে। গত বৃহস্পতিবার ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেন ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এরপরই তিনি ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন এবং শনিবার আরব সাগরে থাকা মার্কিন রণতরি ইউএসএস ত্রিপোলিতে সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন।
গত শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। তবে শনিবার পাম বিচ থেকে মিয়ামির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিমানে বসে তিনি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি দেখছি। পরে আপনাদের জানাব... তারা আমাকে চুক্তির মূল বিষয়টি বলেছে। এখন তারা আমাকে বিস্তারিত জানাবে।’
ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান “অসদাচরণ” করলে দেশটির বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। গত শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি এখন চূড়ান্ত লিখিত খসড়ার অপেক্ষায় আছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে ইরানে আবার হামলার সম্ভাবনা আছে কি না—জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও বলেন, ইরান অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে এখনো “যথেষ্ট মূল্য দেয়নি”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, ইরান নতুন একটি প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ শিথিল করার দাবি জানিয়েছে। তবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি পরে বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। পুরো পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহর ড্রোন ইসরায়েলির নতুন আতঙ্ক: এদিকে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত নতুন প্রযুক্তির ফাইবার অপটিক ড্রোনগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলায় দারুণ কার্যকর ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, এই ড্রোনগুলো কোনো তারহীন সংকেত বা ওয়্যারলেস সিগন্যালের বদলে সরাসরি ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা তারের মাধ্যমে অপারেটরের (চালক) সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর জন্য অনেক সহজ ও নিখুঁত হয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ড্রোনের তারের বিস্তৃতি প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এতে ড্রোনচালকেরা নিরাপদ দূরত্বে থেকেই হামলা পরিচালনা করতে পারছেন।
অন্য একটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, হিজবুল্লাহ এই ড্রোনগুলোতে শক্তিশালী বিস্ফোরক যুক্ত করছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনের এই নতুন হুমকি মোকাবিলায় তারা কার্যকর পথ খুঁজছেন।
এদিকে, লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রণাঙ্গনের বেশ কিছু ইসরায়েলি অবস্থানে তারা আত্মঘাতী ড্রোন হামলা ও কামান থেকে গোলাবর্ষণ করেছে। বিয়াদা শহরে ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানের দুটি পৃথক অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে।
একই এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ড্রোন দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, আল-কান্তারা শহরের জুনেইজেল পাহাড়ে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করেছে হিজবুল্লাহ।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জন নিহত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই মাস ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৮,১৮৩ জন।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

