৩৯ দেশের চিকিৎসকদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১৭:৫০
মার্কিন প্রশাসন ৩৯টি দেশের চিকিৎসকদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ ও কর্মসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) তাদের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করে জানায়, এসব দেশের চিকিৎসকদের ভিসা ও কাজের আবেদন আর স্থগিত রাখা হবে না।
এর আগে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই ৩৯ দেশের চিকিৎসকদের ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও গ্রিন কার্ডসহ সব ধরনের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই বিদেশি নাগরিক।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের ওয়েবসাইটে লেখা আছে, চিকিৎসকদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ অব্যাহত থাকবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ে দেশটির স্বাস্থ্য খাতে। অনেক হাসপাতাল বিদেশি চিকিৎসকদের ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়, ফলে চিকিৎসাসেবায় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ভেনেজুয়েলার চিকিৎসকেরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও অনেক চিকিৎসক বৈধতা-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি মার্কিন চিকিৎসক সংগঠন সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানায় এবং বিষয়টিকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই সুবিধা আপাতত শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চিকিৎসকদের জন্য প্রযোজ্য। যারা বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রবেশসংক্রান্ত আগের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
ভেনিজুয়েলার চিকিৎসকের আটক ও মুক্তি: ৩৯টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর ওই দেশগুলো থেকে আসা সব ধরনের ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও গ্রিন কার্ডের আবেদন স্থগিত করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে কর্মরত বিদেশি চিকিৎসকদেরও হাসপাতাল থেকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। ভেনিজুয়েলার পারিবারিক চিকিৎসক এজেকিয়েল ভেলিজকে ৬ এপ্রিল টেক্সাসের একটি চেকপয়েন্টে ফেডারেল এজেন্টরা আটক করেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে তার ভিসা নবায়ন আটকে থাকায় তিনি আইনি মর্যাদা হারান। ১০ দিন পর মুক্তি পান তিনি।
চিকিৎসক সংগঠনগুলোর জরুরি চিঠিতে নড়ল প্রশাসন: ৮ এপ্রিল আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস, নিউরোলজি ও পেডিয়াট্রিকসহ বেশ কয়েকটি চিকিৎসক সংগঠন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিবকে জরুরি চিঠি দিয়ে উদ্বেগ জানায়। তারা যোগ্য ও যাচাইকৃত চিকিৎসকদের জন্য জাতীয় স্বার্থ ছাড় ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের দাবি জানায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত সব চিকিৎসকের ২৫ শতাংশই বিদেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে এখনো বহাল নিষেধাজ্ঞা: তবে এই ছাড় সবার জন্য নয়। প্রজেক্ট আইএমজির প্রতিষ্ঠাতা সেবাস্তিয়ান আরুয়ারানা জানান, আক্রান্ত চিকিৎসকদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছাড় কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে অবস্থানরত চিকিৎসকদের জন্য। বাইরে থাকা চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে বাহ্যিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

