মধ্যপ্রাচ্য সংকট: দেশবাসীর প্রতি মোদীর সাত আহ্বান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ২১:২৪
নরেন্দ্র মোদী
পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; এর আঁচ এসে লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। দীর্ঘ নীরবতার পর ভারত সরকার এই সংকটের গভীরতা ও এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নড়েচড়ে বসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি দেশবাসীর কাছে সাতটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ার অর্থ হলো
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরণের বিপর্যয়। ভারত তার প্রয়োজনের
সিংহভাগ জ্বালানি তেল ও গ্যাস ওই অঞ্চল থেকে আমদানি করে। ফলে সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি
দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা
রয়েছে। ডেকান হেরাল্ডের এক কলামে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত সরকার সম্ভবত পরিস্থিতির
গুরুত্ব শেষ পর্যন্ত অনুধাবন করতে পেরেছে এবং সেই অনুযায়ী আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ
নিচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁর অনুরোধগুলো হলো- যানজট ও জ্বালানি সাশ্রয়ে যেখানে সম্ভব বাড়ি থেকে কাজ করার মানসিকতা
তৈরি করা, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাস বা ট্রেনের মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে গুরুত্ব
দেওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে অপ্রয়োজনে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকা,
আমদানিনির্ভর ভোজ্য তেলের ব্যবহার সীমিত করা, বিদেশি পণ্যের বদলে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে
অগ্রাধিকার দেওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমাতে এই সংকটের সময়ে বিদেশ সফর না করা এবং
প্রাত্যহিক জীবনে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় কমানো।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদীর এই সাত দফা
অনুরোধ মূলত একটি ‘জরুরি অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষা’ কৌশল। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে
ভারতের ওপর যে চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এখন অপরিহার্য।
বিশেষ করে স্বর্ণ এবং তেলের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের চাহিদা কমিয়ে আনলে ভারতের বৈদেশিক
মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকলে ভারত কেবল
একটি পক্ষ অবলম্বনের চেয়ে নিজের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই বেশি মনোযোগী হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান দেশবাসীকে আগাম
একটি সংকটের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করারই নামান্তর। যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি
দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে ভারতের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এবং পরিবহন
খরচের ওপর এর বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা সেই আসন্ন
তুফানের পূর্বাভাস বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

