‘পদত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাবেন না স্টারমার’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১৯:৪৪
যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি
স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর লেবার পার্টির ভেতরে তীব্র চাপের মুখে থাকা সত্ত্বেও পদত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘টাইমটেবিল’ ঘোষণা করবেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তাঁর এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি।
সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে
দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেভিড ল্যামি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সময়সীমা
নির্ধারণ করা হবে না।"
আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দুবার
কথা হয়েছে উল্লেখ করে ল্যামি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং সতর্ক
করে বলেন, এই আত্মঘাতী রাজনীতি চলতে থাকলে আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে হারতে
হবে।
গত ৭ মে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের স্থানীয়
নির্বাচনে লেবার পার্টির ব্যাপক পরাজয়ের পর দলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সংসদ সদস্য (এমপি)
কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বর্তমানে দলের দুই হেভিওয়েট নেতা প্রকাশ্যে
তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন, যা দেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি
করেছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, দলের মোট
সংসদ সদস্যের ২০ শতাংশ (৮১ জন এমপি) যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা বা নতুন নেতৃত্বের
প্রস্তাব জমা দেন, তবেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হবে। স্টারমারের নেতৃত্বকে
চ্যালেঞ্জ জানাতে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং।
তিনি জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হলে তিনি প্রার্থী হবেন। অন্যদিকে,
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নামও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এই
দৌড়ে শামিল হওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নেতৃত্বের এই লড়াইয়ের সমান্তরালে দলটিতে
ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) বিতর্কও নতুন করে চাঙ্গা
হয়ে উঠেছে। পদপ্রার্থী ওয়েস স্ট্রিটিং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি যুক্তরাজ্যকে পুনরায়
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান। তবে তাঁর এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা
করেছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নামের সমর্থকরা।
সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দীও
এই মুহূর্তে ইইউ-তে ফেরার প্রসঙ্গটিকে প্রচারণায় টানাকে একপ্রকার ‘অদ্ভুত’ বলে বর্ণনা করেছেন। এদিকে লেবার
পার্টির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিতে মাঠে নেমেছে ডানপন্থী দল 'রিফর্ম ইউকে'।
দলের নেতা নাইজেল ফারাজ অ্যান্ডি বার্নামকে "উন্মুক্ত সীমান্তের বার্নাম"
বলে কটাক্ষ করে বলেছেন, যখন কোটি কোটি ভোটার দেশের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলছেন,
তখন লেবার নেতারা ইইউ-এর অবাধ যাতায়াত নীতিতে ফিরে যাওয়ার ওকালতি করছেন।
যদিও কিয়ার স্টারমার প্রকাশ্যে যেকোনো
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে বেশ কিছু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম
দাবি করেছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং লড়াইয়ে থাকবেন কি না তা
নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। লিসা নন্দীও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। সব মিলিয়ে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে চরম উত্তাপ বিরাজ করছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

