Logo

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রস্তাব বিনিময় অব্যাহত

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ২০:৫১

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রস্তাব বিনিময় অব্যাহত

# চুক্তি না হলে ইরানে কিছুই থাকবে না: ট্রাম্প

# ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যান

# যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত, রাজি নয় তেহরান

# ইরানে দু-এক দিনের মধ্যে ফের মার্কিন হামলা 

# ইসরায়েলি হামলায় গাজা-লেবাননে নিহত ১৩

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা এখনো বন্ধ হয়নি। দুই দেশের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নিয়মিত প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব আদান-প্রদান চলছে। সংশোধিত দাবি ও নতুন শর্ত নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

আলোচনার শুরুতে ইরান ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করেনি। এরপর দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য কমানোর চেষ্টা করে ইরান। পরে তারা নতুন করে সংশোধিত জবাব পাঠায়।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরো কিছু পরিবর্তিত প্রস্তাব পেয়েছে ইরান। তেহরান সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে নিজেদের নতুন অবস্থানও পাকিস্তানকে জানিয়েছে। ফলে আলোচনা এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং দুই পক্ষ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

এদিকে গতকাল রোববার ফার্স সংবাদ সংস্থা কিছু অনিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবও নাকচ করেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইরানের জব্দ করা সম্পদ পুরোপুরি ফেরত দেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়নি। তবে এসব খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, আলোচনার বিষয়ে যেসব অনিশ্চিত তথ্য প্রকাশ হচ্ছে, তার অনেকগুলোর বাস্তব ভিত্তি নেই।

তবে একটি বিষয়ে ইরান স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না। তেহরানের দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তাদের এই অধিকার রয়েছে। এই বিষয়টিই এখন আলোচনার সবচেয়ে বড় জটিল দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান অন্তত ২০ বছরের জন্য পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক।

অন্যদিকে ইরানের মতে, এত দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখালেও পর্দার আড়ালে ইরান কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, ইরান তুলনামূলক কম সময়ের জন্য সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হতে পারে। সেই সময়সীমা তিন থেকে পাঁচ বছর হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে পুনরায় হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিসের মিডিয়া স্টাডিসের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। 

চুক্তি না হলে ইরানে কিছুই থাকবে না- ট্রাম্প: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে খুব তাড়াতাড়ি রাজি না হয়, তাহলে চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। ট্রুথ সোশ্যাল একাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের জন্য সময় খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলার পরেই ট্রাম্পের এই হুমকি সামনে এলো

ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যান: স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ।

ইরানি আলোচকদের একটি কাছের সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থাটি বলেছে, ইরান ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করা।

বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনো ঘোষণা দিয়েই তিনি দেশটির রাজধানী তেহরানে যান। আজ তৃতীয়দিনের মতো তার সফরের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরমধ্যে জানা গেলো, ইরান মার্কিনিদের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১৪ দফার ব্যাপক শান্তি প্রস্তাব সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে এর জন্য মার্কিন করদাতাদের ভবিষ্যতে অত্যন্ত ভারী ও চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

এর বিপরীতে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরানের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মহলে পাঁচটি ‘আস্থা-বিল্ডিং’ বা বিশ্বাসযোগ্য পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো- লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলাসহ সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে, ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব ফান্ড বা অর্থ অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত, রাজি নয় তেহরান: চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় ইরানকে বাগে আনতে ৫টি বড় এবং অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা শর্তগুলো দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরানের উৎপাদিত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করা। এ ছাড়া পূর্ববর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতেও সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

গত রোববার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদন বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখন এক গভীর অচলাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিল থেকে সুবিধা আদায় করতে ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আওতাধীন যতগুলো স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা বা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সচল বা চালুর অনুমতি পাবে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আটকে বা ফ্রিজ করে রাখা ইরানের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশও অবমুক্ত বা ছেড়ে দেওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার বিষয়টি এই আলোচনার ধারাবাহিকতা ও সফল সমাপ্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে লিংক বা জুড়ে দিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি আমেরিকার এই সবকটি শর্ত মেনেও নেয়, তবুও ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী হুমকি পুরোপুরি বহাল থাকবে।

মার্কিন এই পাল্টা শর্তের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের গণমাধ্যমগুলো রোববার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া যৌক্তিক শান্তি প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দৃশ্যমান বা বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মূলত তাদের সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কূটনীতিকে একটি সস্তা ঢাল বা কভার হিসেবে ব্যবহার করছে। 

ইরানে দু-এক দিনের মধ্যে ফের মার্কিন হামলা: যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে পুনরায় হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিসের মিডিয়া স্টাডিসের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। গতকাল সোমবার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিপেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানের কাছে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষ ফের যুদ্ধ শুরু করার জন্য উসকানি দিচ্ছে। এরমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ‘যুদ্ধবাজ’ কর্মকর্তারও রয়েছেন।’

এলমাসরি বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে তিনি (ট্রাম্প) যে ধরনের আত্মসমর্পণ চেয়েছিলেন এবং প্রত্যাশা করেছিলেন, তা পাননি। ট্রাম্প আশা করেছিলেন ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ভিন্নভাবে হবে। এরসঙ্গে চীন সফরে এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও তিনি ইরান নিয়ে উচ্চ আশা করেছিলেন। তবে এর কিছুই হয়নি।’ 

ইসরায়েলি হামলায় গাজা-লেবাননে নিহত ১৩: যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটে গতকাল রোববার। গাজা ও লেবাননে পৃথক হামলায় মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল রোববার গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মধ্যগাজার দেইর আল–বালাহ শহরে একটি কমিউনিটি কিচেনের তিন কর্মী রয়েছেন। খান ইউনিস ও বেইত লাহিয়াতেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

গাজা নগরী থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি হিন্দ খোদারি জানান, গতকাল দেইর আল–বালাহ শহরের একটি কমিউনিটি কিচেনে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে নিহত তিনজনই ওই কমিউনিটি কিচেনের কর্মী ছিলেন। খোদারি বলেন, এ হামলা থেকে বোঝা যায়, ইসরায়েল শুধু মানুষই নয়, গাজাজুড়ে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাস এটিকে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, এটি গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার আরেকটি দৃশ্য।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে ব্যাপক সামরিক ও বিমান হামলা চালালে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই আগ্রাসনের পর ইরানও লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে পাল্টা প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়, ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

৪০ দিনের তীব্র সংঘাতের পর বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও আলোচনার সুযোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে এটি বর্ধিত করেন। এখনো সেই যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আবারো উত্তেজনা এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ফের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা জেগে উঠেছে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন