নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল ফ্রান্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ২০:১৫
জব্দকৃত তেলবাহী ট্যাংকার 'তাগোর'
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাশিয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটলান্টিক মহাসাগরে জব্দ করেছে ফ্রান্সের নৌবাহিনী। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ সোমবার (১ জুন) এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায়
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ জানান, "যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি অংশীদারের সহযোগিতায়
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন কঠোরভাবে মেনে আটলান্টিক মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় এই অভিযান
চালানো হয়।"
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও
বলেন, "আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা, সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করা এবং চার বছরেরও
বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে অর্থায়ন করা কোনো
জাহাজের পক্ষেই গ্রহণযোগ্য নয়।" জব্দকৃত তেলবাহী ট্যাংকারটির নাম 'তাগোর' বলেও
উল্লেখ করেন তিনি।
আটলান্টিক অঞ্চলের মেরিটাইম প্রিফেকচার
সোমবার আলাদা এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ওই তেলবাহী
ট্যাংকারটিকে ফ্রান্সের ব্রিটানি উপকূল থেকে ৪০০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার)
পশ্চিমে আটকে দেয় ফরাসি নৌবাহিনী। মূলত একটি জাল পতাকা ব্যবহার করার সন্দেহে জাহাজটির
জাতীয়তা পরীক্ষা করতে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নৌবাহিনীর তল্লাশি দল জাহাজটিতে ওঠার
পর কাগজপত্র পরীক্ষা করে পতাকা সংক্রান্ত জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিক
আইন অনুযায়ী সরকারি কৌঁসুলির অনুরোধে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ফরাসি
নৌবাহিনী।
রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত
তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’
বা ছায়া বহরের জাহাজগুলোকে রুখে দিতে ফ্রান্স ও ব্রিটেন—উভয় দেশই একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি
দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের
জলসীমায় এই ছায়া বহরের জাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানোর জন্য সামরিক বাহিনীকে আনুষ্ঠানিক
অনুমতি দেন।
তবে শিপিং ডেটা বা নৌ-পরিবহন সংক্রান্ত
উপাত্ত বলছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া সংশ্লিষ্ট ডজনখানেক জাহাজ
এখনো নিয়মিত যুক্তরাজ্যের জলসীমা ব্যবহার করে যাতায়াত করছে। এর মাঝেই আটলান্টিক মহাসাগরে
ফ্রান্সের এই বড় ধরনের অভিযানকে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে একটি বড়
পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

