মার্কিন দুই রাজনৈতিক বিশ্লেষককে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ২০:৪৬
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
নিষিদ্ধ হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন—আমেরিকার
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ নেটওয়ার্ক 'দ্য ইয়ং টার্কস'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেঙ্ক উইগার
এবং তার ভাগ্নে, খ্যাতনামা পলিটিক্যাল স্ট্রিমার হাসান পাইকার।
যুক্তরাজ্যের 'এসএক্সএসডব্লিউ লন্ডন' উৎসবে
যোগ দিতে এবং ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাদের লন্ডনে
যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা বাতিল করে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ
ঘোষণা করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক
টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জেঙ্ক উইগার জানান, লন্ডনের ফ্লাইটে ওঠার আগমুহূর্তে
তিনি এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানতে পারেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে, ইসরায়েলের
সমালোচনা করার কারণে তাকে যুক্তরাজ্যের "জনশৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি"
হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উইগার ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ব্রিটিশ সরকার বলছে তারা
আমাকে নিষিদ্ধ করছে কারণ মার্কিন কংগ্রেসের ৯৪ শতাংশ সদস্যকে অনুদানের মাধ্যমে ইসরায়েল
নিয়ন্ত্রণ করে—আমার এই বক্তব্যটি নাকি ইহুদি-বিদ্বেষী। অথচ এটি একটি প্রমাণিত সত্য।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি যুক্তরাজ্যের কোনো
সমালোচনা করিনি, কেবল ইসরায়েলের সমালোচনা করেছি। অথচ তারা আমাকে নিষিদ্ধ করল এই অজুহাতে
যে, আমার মন্তব্যের কারণে অন্য দেশের সরকারগুলোর ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
হতে পারে! এটি সম্পূর্ণ অদ্ভুত ও অযৌক্তিক একটি বিষয়।
ইন্টারনেট দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক
স্ট্রিমার এবং ফিলিস্তিনের কট্টর সমর্থক হাসান পাইকারও লাইভস্ট্রিমে নিশ্চিত করেছেন
যে, একই কারণে তার যুক্তরাজ্যের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
একটি লাইভস্ট্রিমে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসান
পাইকার বলেন, "এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, যুক্তরাজ্যের কাছেও এখন ইসরায়েলের স্বার্থই
সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ইসরায়েলপন্থী লবিং সংস্থাগুলোর ক্ষমতা এতটাই অবিশ্বাস্য
যে, তারা যুক্তরাজ্যের মতো দেশের সিদ্ধান্তকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আপনি যদি একজন
কট্টর জায়নবাদী-বিরোধী হন, তবে আপনার স্বাধীন চলাচলেও তারা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেবে।"
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস'-এর এক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে জেঙ্ক উইগারের
উপস্থিতি দেশের "জনস্বার্থের জন্য সহায়ক নয়"। হাসান পাইকারের ক্ষেত্রেও
একই আইনি পরিভাষা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইহুদি-বিদ্বেষী
মন্তব্যের ইতিহাস টেনে মার্কিন র্যাপার 'ইয়ে' (সাবেক কানিয়ে ওয়েস্ট)-কেও যুক্তরাজ্যে
প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উইগার
ও পাইকারের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমালোচনার কণ্ঠরোধ করতেই এই বিতর্কিত পদক্ষেপ
নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

