Logo

আন্তর্জাতিক

কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ছাড়াল এক হাজার ৩০০

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩

কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ছাড়াল এক হাজার ৩০০

ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ৩৫৪ জনে পৌঁছেছে। এরমধ্যে পাঁচদিনে মৃত্যু ৪০ শতাংশ বেড়েছে। শীর্ষস্থানীয় এক স্বাস্থ্য পরামর্শক বলেছেন, কঙ্গোতে দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস।

শনিবার (২৫ জুলাই) কঙ্গো সরকার নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে মৃত্যুসহ ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৭৫ জনে পৌঁছেছে; যা গত শনিবারের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, নজিরবিহীন হিসেবে বেড়ে চলা মৃত্যু ও আক্রান্ত দেখাচ্ছে কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলা বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে।

আব্দুলসামি নাসিদি নামে এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, প্রমাণিত কার্যকর ভ্যাকসিনের অভাবে ইবোলা এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিগ্রহ থাকা অঞ্চলে এ ভাইরাস ছড়ানোয় তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ সেসব অঞ্চলে সাধারণ স্বাস্থ্য অবকাঠামোও নেই।

কঙ্গোর ইবোলা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এ নিয়ে ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ জানিয়েছে, দ্রুতগতিতে তৈরি তাদের একটি ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এক স্বেচ্ছাসেবীর দেহে প্রবেশ করানো হয়েছে।

বর্তমানে কঙ্গোতে ছড়াচ্ছে বুন্দিবুগয়ো নামে একটি ভ্যারিয়েন্ট। এটি ইবোলা ভাইরাসের চারটি বিরল ভ্যারিয়েন্টের একটি। এই ভ্যারিয়েন্টগুলো মানবদেহকে আক্রান্ত করেছে কিন্তু এগুলোর কোনো ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি।

এদিকে কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাব বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, এবারের পরিস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও উদ্বেগজনক।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ডিআরসির পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাবে প্রাণ হারান দুই হাজার ২৮৭ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি বুন্দিবুগয়ো প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। দ্বিতীয়ত, রোগটি কয়েক সপ্তাহ ধরে অজ্ঞাত অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার পর ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। গত এক বছরে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় রোগ নজরদারি ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশ, যা উগান্ডা সীমান্তের কাছাকাছি। দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত এবং সরকারি সংস্থার প্রতি স্থানীয় মানুষের অবিশ্বাসের কারণে আক্রান্তদের শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা সংকটের মুখে রয়েছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) ঘাটতি, সংক্রমণের ঝুঁকি, বেতন না পাওয়া এবং স্থানীয় কিছু মানুষের হামলার শিকার হতে হচ্ছে তাদের। ভাইরাসের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করায় অনেক বাসিন্দা চিকিৎসা নিতেও অনীহা দেখাচ্ছেন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন