Logo

আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লু বিস্তারের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা জারি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৮

অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লু বিস্তারের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা জারি

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে সামুদ্রিক পাখির প্রথমবার গণমৃত্যুর ঘটনার পর দেশে প্রাণঘাতী 'এইচফাইভএনওয়ান' বার্ড ফ্লু ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ও বিস্তারের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির সরকার। একটি পাথুরে দ্বীপে প্রায় ৫০টি সামুদ্রিক পাখির মৃত্যুর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাদের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হলে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, রাজধানী এডিলেড থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কেপ জাফা’ উপকূলের একটি পাথুরে চরে গত শুক্রবার হেলিকপ্টার নজরদারির সময় ৪৯টি মৃত এবং ৩৫টি গুরুতর অসুস্থ 'গ্রেটার ক্রস্টেড টার্ন' (এক ধরণের সামুদ্রিক পাখি) পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ল্যাব টেস্টে তাদের শরীরে এইচফাইভএনওয়ান প্রজাতির বার্ড ফ্লু ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। ক্যানবেরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের এখন বন্যপ্রাণীদের মধ্যে এই ভাইরাসের আরও বড় ধরণের বিস্তার এবং বিপুল সংখ্যক পাখির মৃত্যুর খবরের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী মারি ওয়াট জানান, গৃহপালিত খামারের পশু-পাখিকে আলাদা রাখা সম্ভব হলেও বন্য বা পরিযায়ী পাখিদের উড়ন্ত গতিবিধি রুদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। বাস্তবতা হলো আপনি বুনো ও দেশীয় পাখিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে যাওয়া কিংবা বন্যপ্রাণীদের চলাচল বন্ধ করতে পারবেন না। এর অর্থ হলো, এখন আমরা কেপ জাফায় যে ধরণের গণমৃত্যু দেখেছি, সামনে এমন ঘটনা আরও ঘটার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বের একমাত্র মহাদেশ হিসেবে এতদিন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া এইচফাইভএনওয়ান স্ট্রেন মুক্ত ছিল। এমনকি প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ডেও সম্প্রতি তাদের প্রথম কেস শনাক্ত করেছে। উভয় দেশই বিগত কয়েক বছর ধরে খামারগুলোতে কঠোর জৈব-সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উপকূলীয় পাখির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির পাখিদের টিকাদানের মতো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।

যদিও এখনও পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারগুলোতে এই ভাইরাসের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং জুন মাসে প্রথম ভাইরাসটির উপস্থিতি টের পাওয়ার পর থেকেই খামারগুলোতে কঠোর লকডাউন বলবৎ রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে সারা বিশ্বে এইচফাইভএনওয়ান বার্ড ফ্লুর তাণ্ডবে শত কোটি পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী মারা গেছে।

পোল্ট্রি শিল্পে শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশু (গরু) পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সমুদ্র সৈকতগুলোতে সিল  ও পাখির শয়ে শয়ে মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচফাইভএনওয়ান বার্ড ফ্লু সংক্রামিত পশুপাখির প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে মানবদেহে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে এখনও অত্যন্ত কম। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে তাৎক্ষণিক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এখনও পর্যন্ত বেশ কম, তবে বন্য বা মৃত পাখির কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন