গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকে অবমাননা
দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টারবাকসের সদর দফতরে পুলিশের অভিযান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৮
দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৮০-এর দশকের ঐতিহাসিক গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকে অবমাননা করার অভিযোগে বিশ্বখ্যাত কফি চেইন স্টারবাকস কোরিয়ার সদর দফতরে অভিযান চালিয়েছে সে দেশের পুলিশ। দক্ষিণ কোরীয় পুলিশের বরাতে জানা গেছে, সিউলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত স্টারবাকসের কার্যালয়ে মঙ্গলবার এই তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রতিষ্ঠানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বাসভবনেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
বিতর্কের সূত্রপাত স্টারবাকসের একটি বিতর্কিত
বিপণন বা মার্কেটিং ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে। প্রতিষ্ঠানটি 'এসএস ট্যাঙ্ক' নামের একটি
স্টেইনলেস স্টিলের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ট্রাভেল মগ বাজারে আনে এবং গত ১৮ মে তারিখটিকে
'ট্যাঙ্ক ডে' হিসেবে ঘোষণা করে। তবে ১৮ মে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে অত্যন্ত সংবেদনশীল
একটি দিন।
১৯৮০ সালের এই দিনে ঐতিহ্যবাহী গুয়াংজু
শহরে সেনা স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছিল, যা তত্কালীন সামরিক সরকার নির্মমভাবে
দমন করে। এই ঘটনায় সরকারি হিসেবেই প্রায় ২০০ জন গণতন্ত্রকামী মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এমন একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির দিনে 'ট্যাঙ্ক ডে' নাম দিয়ে প্রচার চালানোকে শহীদদের
প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখে স্থানীয় জনগণ।
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় ক্যাম্পেইনটিতে ব্যবহৃত
'থওয়াক ইট অন দ্য টেবিল!' বা ‘টেবিলে জোরসে সশব্দে আঘাত করুন!’ স্লোগানটির কারণে। ১৯৮৭ সালে পুলিশি হেফাজতে
নির্যাতনে নিহত ছাত্র নেতা পার্ক জং-চুলের মর্মান্তিক ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় এই বাক্যটি।
ওই সময় পুলিশ দাবি করেছিল যে, জিজ্ঞাসাবাদের
সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা 'টেবিলে জোরসে থাপ্পড়' দিলে পার্ক ভয়ে মারা যান। প্রকৃতপক্ষে,
নির্যাতনের সত্যতা ঢাকতেই পুলিশ এই মিথ্যা গল্প ফাঁদে। স্টারবাকসের বিজ্ঞাপনে এই স্পর্শকাতর
ঘটনার পরোক্ষ উল্লেখ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
গণক্ষোভের মুখে স্টারবাকস কোরিয়ার ৬৭.৫
শতাংশ শেয়ারের মালিক ‘শিনসেগে গ্রুপ’ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রচারণাটি বাতিল ঘোষণা করে এবং প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে শিনসেগে গ্রুপের চেয়ারম্যান চুং
ইয়ং-জিন টেলিভিশনে লাইভ এসে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান। পরিস্থিতি সামাল
দিতে ও ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতা বুঝতে গত ২২ জুন দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সব স্টারবাকস আউটলেট
সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইতিহাস ও সামাজিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের
আয়োজন করা হয়।
গুয়াংজু হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০
সালের গুয়াংজু ট্র্যাজেডি এবং ১৯৮৭ সালের গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসক চুন
দু-হাওয়ান বাধ্য হয়ে দেশে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাংবিধানিক সংস্কার মেনে
নিয়েছিলেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

