Logo

আন্তর্জাতিক

জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৫

জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

আফ্রিকার অন্যতম রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল রাষ্ট্র জাম্বিয়ায় এক চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৬৪ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে লড়াই করছেন।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে দেশের প্রায় ৮৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জামান। ভোটগ্রহণ চলব বিকেল ৬টা পর্যন্ত এবং আগামী সোমবারের মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনের মূল নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার। ২০২১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা জাম্বিয়ার বিশাল বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেন। যদিও গত এপ্রিলে দেশটির মূল্যস্ফীতি কমে ৬.৮ শতাংশে নেমে এসেছে এবং স্থানীয় মুদ্রা কোয়াচার মান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে, তবুও অধিকাংশ সাধারণ নাগরিক এর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন না। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী, জাম্বিয়ার ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ দিনে ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করেন। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ বেকারত্ব, উচ্চ খাদ্যমূল্য এবং বিদ্যুতের ধারাবাহিক সংকট ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই জমে উঠেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা ও প্রধান বিরোধী জোটের প্রার্থী ৫৫ বছর বয়সী ব্রায়ান মুন্ডুবিলের মধ্যে। মুন্ডুবিলে ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা পেট্রিওটিক ফ্রন্ট সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রী এবং সদ্য গঠিত এনআরপিইউপি দলের ব্যানারে নির্বাচন করছেন।

নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুন্ডুবিলে অভিযোগ করেন, সরকার তাদের প্রচারণায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং নির্বাচনটি অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার মতো পরিবেশ নেই। তিনি বিজয়ী হলে দেশে রাজনৈতিক সংহতি ও জাতীয় পুনর্গঠন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

২০২৫ সালে সংবিধানের পরিবর্তনের মাধ্যমে এ বছর থেকে দেশটির পার্লামেন্টের আসন সংখ্যা ১৫৬ থেকে বাড়িয়ে ২২৬টি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে কোনো প্রার্থী যদি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তবে প্রথম দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার (রান-অফ) ভোটগ্রহণ হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তামার অন্যতম প্রধান উৎপাদক হওয়ায় এই নির্বাচনের দিকে বিশ্বশক্তির চোখ রয়েছে।

চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আফ্রিকার এই সমৃদ্ধ খনিজ খাতে তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবির বিভক্ত থাকায় হিচিলেমা এগিয়ে থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট সমাধানই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

 

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন