Logo

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ সময় ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে সাময়িক শ্রবণশক্তি হারালেন চীনা তরুণ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭

দীর্ঘ সময় ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে সাময়িক শ্রবণশক্তি হারালেন চীনা তরুণ

ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির নির্মল শব্দ মানুষের মনে প্রশান্তি আনার কথা। কিন্তু সেই প্রাকৃতিক শব্দই যদি অতিরিক্ত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা কেড়ে নিতে পারে আপনার শ্রবণশক্তি। 

সম্প্রতি চীনে টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ঝিঁঝিঁ পোকার বিকট ডাক শুনে এক তরুণ সাময়িকভাবে তার শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। 

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের নিংবো শহরে এ ঘটনা ঘটে। 

ওয়াং নামের ১৮ বছর বয়সি এক তরুণ সম্প্রতি একটি বনে ক্যাম্পিং করতে গিয়েছিলেন। দুপুরবেলা তিনি লক্ষ্য করেন যে চারপাশের ঝিঁঝিঁ পোকাগুলোর ডাক অস্বাভাবিক রকমের জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে প্রাকৃতিক বিষয় ভেবে তিনি বিষয়টিকে তেমন আমল না দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বনেই অবস্থান করেন।

সন্ধ্যা নামলে ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ কিছুটা কমে এলে ওয়াং বুঝতে পারেন যে তিনি কানে বেশ কম শুনছেন। একই সঙ্গে তার দুই কানে ক্রমাগত ভোঁ-ভোঁ শব্দ হওয়া এবং কান বন্ধ হয়ে থাকার অনুভূতি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি লক্ষ্য করেন যে তিনি আশপাশের পাখির ডাক কিংবা নিজের মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশনের শব্দও আর শুনতে পাচ্ছেন না। 

শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় তিনি দ্রুত স্থানীয় নিংবো ইউনিভার্সিটি নম্বর ১ অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালে ছোটেন। সেখানকার নাক, কান ও গলা বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক ডক্টর লি জি ওয়াংকে পরীক্ষা করে জানান যে বিকট শব্দের কারণে তার ভেতরের কান ফুলে গেছে। চিকিৎসকরা তাকে কানের ফোলা ভাব কমানোর ওষুধ দেন এবং পরবর্তী অন্তত ১৪ দিন সব ধরনের জোরালো শব্দ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকার পরামর্শ দেন। সৌভাগ্যবশত, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর দুই সপ্তাহ শেষে ওই তরুণের শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

ডক্টর লি জি জানান, অধিকাংশ মানুষের ধারণা প্রকৃতির শব্দ কখনো কানের ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ঝিঁঝিঁ পোকাকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী পতঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি মাত্র ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ হয়তো কানের ক্ষতি করার মতো জোরালো নয়, কিন্তু যখন হাজার হাজার পোকা একসঙ্গে ডাকতে শুরু করে, তখন সেই সম্মিলিত শব্দ ভীতিজনক রূপ নেয়। 

একটি বড় সিকেডার দল ৮৫ ডেসিবেলেরও বেশি তীব্রতার শব্দ তৈরি করতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, ৮৫ ডেসিবেল বা তার বেশি মাত্রার শব্দে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে মানুষের কানের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। 

কানের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডক্টর লি বলেন, কানের ভেতরে থাকা কক্লিয়ার অংশে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ‘হেয়ার সেল’ বা কানের কেশ-কোষ থাকে। দীর্ঘ সময় বিকট শব্দের সংস্পর্শে থাকলে এই কোষগুলোতে ফোলা ভাব বা ইডিমা তৈরি হয়।

শব্দযুক্ত পরিবেশ থেকে সরে এসে যদি কানকে এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া যায়, তবে এই কোষগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে— যেমনটি এই চীনা তরুণের ক্ষেত্রে ঘটেছে।

ডক্টর লি আরও বলেন, যদি শব্দের মাত্রা অত্যন্ত বেশি হয় বা দীর্ঘমেয়াদী হয়, তবে কানের এই সূক্ষ্ম কোষগুলো চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মানবদেহের অন্যান্য কোষের মতো কানের এই হেয়ার সেলগুলো একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর কখনো পুনরুজ্জীবিত হয় না। ফলে মানুষ স্থায়ীভাবে বধির হয়ে যেতে পারে এবং তাদের হিয়ারিং এইড (শ্রবণযন্ত্র) ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন