Logo

আন্তর্জাতিক

ইউরোপীয় ইউনিয়নে

যোগদান নিয়ে আইসল্যান্ডে ঐতিহাসিক গণভোট

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৪

যোগদান নিয়ে আইসল্যান্ডে ঐতিহাসিক গণভোট

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের ঐতিহাসিক আলোচনায় পুনরায় ফেরা হবে কি নাতা নির্ধারণ করতে ২৯ আগস্ট ২০২৬ এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের গণভোটে অংশ নিচ্ছে আইসল্যান্ড। প্রায় ৪ লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের প্রাণকেন্দ্র 'মৎস্য শিল্প'-এর ওপর। সম্প্রতি প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষের ভোটারদের ব্যবধান এতই কম যে ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আইসল্যান্ডের মোট রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে সামুদ্রিক ও মৎস্য খাত থেকে। সমুদ্রতীরবর্তী মাছের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোর মালিক ও কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, ইইউ-তে যোগ দিলে তাদের মৎস্য নীতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের হাতে চলে যাবে। বিরোধী দলগুলোর মতে, এতে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তসুন ফ্রোস্তাদোত্তিরের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ও ইইউ-পন্থী সমর্থকেরা মনে করছেন, ব্লকে যোগ দিয়ে একক মুদ্রা হিসেবে ইউরো গ্রহণ করা গেলে দেশের অস্থির মুদ্রা ব্যবস্থা, চড়াও হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ৮ শতাংশে পৌঁছানো সুদের হার নিয়ন্ত্রণে আসবে। বর্তমানে আইসল্যান্ড ইইউ-র গড় ব্যয়ের চেয়ে ৮৪ শতাংশ বেশি ব্যয়বহুল একটি দেশ।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর ২০০৯ সালে আইসল্যান্ড ইইউ-তে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করলেও ২০১৩ সালে মৎস্য নীতিতে অমিল থাকায় তা স্থগিত করা হয়। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের মধ্যে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ, আর্কটিক অঞ্চলে পরাশক্তিগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি ও গ্রিনল্যান্ড ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এই গণভোটের সময়সূচি দ্রুত এগিয়ে এনেছে।

আইসল্যান্ড ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও দেশটির নিজস্ব কোনো স্থায়ী সামরিক বাহিনী নেই। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক রাজনীতির পটপরিবর্তনে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপের কাছাকাছি আসাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছেন অনেক রাজনীতিবিদ।

চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, প্রস্তাবের পক্ষে ৫১.৩ শতাংশ এবং বিপক্ষে ৪৮.৭ শতাংশ জনমত রয়েছে, যা অত্যন্ত কাছাকাছি লড়াইয়ের আভাস দেয়। বিরোধীদের দাবি, ইইউ ছোট দেশের স্বার্থের চেয়ে ৪৫ কোটি ভোক্তার স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। তবে সরকার আশ্বস্ত করছে, বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে মৎস্য ও কৃষি খাতকে সুরক্ষা দিয়েই তারা চুক্তির দিকে এগোবেন। গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে ইইউ-র সঙ্গে থমকে থাকা আলোচনা শুরু হবে, কিন্তু চূড়ান্ত সদস্যপদের জন্য পরবর্তীতে আরেকটি দ্বিতীয় গণভোটের প্রয়োজন হবে। তবে 'না' ভোট জয়ী হলে আইসল্যান্ডের ইইউ ব্লকে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন আপাতত দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে যাবে।

 

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন