অনিয়ম-জালিয়াতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়তে হলো পুতুলকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হলো ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিকসহ দেশীয় বিভিন্ন মিডিয়ার খবর বলছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পুতুল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সেই পদত্যাগপত্র দেখেছে বলে দাবি করেছে।
পদত্যাগপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও করেছে ডব্লিউএইচও। তবে পুতুল বলেছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির অধিকারী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে পুতুল লিখেছেন, ‘আমি আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে করে এসেছি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনি দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে আমাকে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। এছাড়া, আপনার বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, পুতুলের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ভোটে এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন পুতুল। পরের বছর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদের দায়িত্ব নেন তিনি।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পুতুলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অনুসন্ধান শুরুর এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পুতুলকে প্রথম অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বুধবার পর্যন্ত তিনি সেই ছুটিতেই ছিলেন।
চলতি বছরের ৩ জুলাই এক চিঠিতে পুতুলের আইনজীবীরা জানান, চীন সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ডব্লিউএইচও।
তবে জুলাইয়ে ডব্লিউএইচওকে দেওয়া এক চিঠিতে পুতুল ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, নিয়মিত ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া করতে গিয়ে একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন পুতুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।
একাধিক সূত্রে খবর, পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করছিল ডব্লিউএইচও। আগামী ১২ অক্টোবর ওই পদের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা হবে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই–বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

