Logo

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের ব্যয় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার: সিবিও

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫৫

ইরান যুদ্ধের ব্যয় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার: সিবিও

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট দপ্তর (সিবিও) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাসব্যাপী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এ যুদ্ধের ব্যয় প্রতি মাসে ৩০০ কোটি ডলার করে বাড়বে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় দপ্তরটি।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন এই সংঘাত অবসানের ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলার রাস্তা খুঁজছে তখন মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ১ আগস্ট পর্যন্ত খরচের এ হিসাব তুলে ধরেছে সিবিও। খবর রয়টার্সের

সিবিওর হিসাব অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধ ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে।

বিশাল এ ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডারে চাপ ফেলেছে আর দেশটিতে জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে তুলছে। এতে অন্য সম্ভাব্য সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্গেগ তৈরি হচ্ছে। খরচের এ বহর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বাজেটেও চাপ সৃষ্টি করছে।

২১ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের এক শুনানিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধের ওই সময় পর্যন্ত ব্যয় তিন হাজার ৭৫০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছিলেন। কংগ্রেসের বাজেট দপ্তরের হিসাবেও কাছাকাছি ব্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে।

বাজেট দপ্তর জানিয়েছে, ব্যয়ের বেশিরভাগই হয়েছে গোলাবারুদ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রশস্ত্রের মজুদ আবার পূরণ করতে পাঁচ বছর লেগে যেতে পারে বলে হিসাবে বলা হয়েছে।

রয়টার্স অগাস্টে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানার ক্ষমতা সম্পন্ন তার ‘প্রায় সব’ দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে।

সিবিও জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কংগ্রেসের আর্থিক অডিটরদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি ইরানের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণকে ‘সুনিশ্চিত পদক্ষেপ’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তেহরানকে মার্কিন সামরিক-বেসামরিক কর্মীদের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কেলি বলেন, কমান্ডার-ইন-চিফের কৌশলগত ও অন্যান্য লক্ষ্য পূরণের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও মজুদ আছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সিবিওর প্রতিবেদনে অস্ত্রশস্ত্রের ঘাটতি পাওয়ার যে উল্লেখ করা হয়েছে তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। পার্নেল বলেন, প্রেসিডেন্টের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায় আঘাত হানার মতো সবকিছু আমাদের আছে।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভ্যানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে ইরান যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে এই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়।

এক বিবৃতিতে বয়েল বলেন, ইরানে ট্রাম্পের বিপর্যয়কর যুদ্ধ ইতোমধ্যে সহসী আমেরিকান সেনাদের প্রাণ নিয়েছে আর অন্যদের আহত করেছে। এই হতাহতের পাশাপাশি নির্দলীয় সিবিওর এই প্রতিবেদন পরিষ্কার করেছে যে এই যুদ্ধ মার্কিন করদাতাদের শত শত কোটি ডলার ব্যয় করছে আর তা খরচ বাড়তে থাকা অবস্থায়ও অব্যাহত আছে।

ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৫০ জনেরও বেশি।

এই প্রতিবেদনে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ও পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হানা আঘাতের ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় ধরা হয়নি। এতে যুদ্ধ চালাতে নেওয়া ঋণের আনুসাঙ্গিক খরচগুলোও অন্তুভুক্ত করা হয়নি, যা ধরা হলে মোট ব্যয়ের সঙ্গে আরও কয়েকশ কোটি ডলার যোগ করতে পারে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন